সহকারী শিক্ষক
০২ নভেম্বর, ২০২৩ ০৭:২০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান,চিকিৎসার
মত শিক্ষা ও মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। একটি দায়িত্বশীল,স্ব-প্রণোদিত,দক্ষ ও
পেশাদার জনশক্তি তৈরি করাই বর্তমান শিক্ষাক্রমের রূপকল্প। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত হবে সে জাতি তত বেশি উন্নত
হবে। সুখী-সমৃদ্ধ এবং উন্নয়নশীল জাতি গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমেই মানুষ প্রকৃত বিবেকবান এবং দায়িত্ববান হয়ে
উঠবে। মানসম্মত শিক্ষা বলতে আমরা তিনটি বিষয়ের সুনিপুণ সম্মিলন বলতে পারি যেমন-
যোগাযোগের সঠিক দক্ষতা অর্জন,প্রয়োজনীয় মানসিক ও আবেগিক বিকাশ এবং নৈতিকতা
ও মূল্যবোধ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের
লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এমনকি প্রাথমিক
শিক্ষা কে সার্বজনীন করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে ৩৬
হাজারের অধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রার যে
শুভ সূচনা করেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩
সালে ২৬ হাজার ১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণিত ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে- রাষ্ট্র
(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য;
(খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য;
কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
বর্তমান বাংলাদেশ সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন কে সামনে রেখে প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিককরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণিত টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ১৭ টি অভিষ্টকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা (এসডিজি) কে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। ১৭ টি অভিষ্ট / লক্ষ্যমাত্রার সাথে সাথে ১৬৯ টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও ২৩২ টি পরিমাপক রয়েছে। যার মধ্যে ৪ নং অভিষ্ট হল- মানসম্মত শিক্ষা (অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত সবার জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি )। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন পূর্বক তা বাস্তবায়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সমূহের মধ্যে রয়েছে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণ, স্কুলে ক্যাচমেন্ট এলাকাভিত্তিক শিশু জরিপপূর্বক ভর্তি নিশ্চিত করা, নিয়মিত মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, হোম ভিজিট কার্যক্রম, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গ্রহণ ও উপবৃত্তি প্রদান, জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ,কাব কার্যক্রম, সরকারি বিদ্যালয়ে দপ্তরি-কাম-প্রহরী নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন, প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হচ্ছে।স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।যাতে আগামীর শিশুরা গনতান্ত্রিক মনোভাব নিয়েই ছোট থেকে গড়ে উঠে। ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রম চালুকরণের মাধ্যমে শিশুরা উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে পাঠদান করা হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষক অভিভাবক কমিটির নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার বদ্ধ পরিকর।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ল্যাপটপ প্রদান ও রাউটার প্রদানের ফলে ডিজিটাল উপায়ে পাঠদান সহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনলাইনভিক্তিক কাজে এসেছে গতিশীলতা। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, সংস্কার, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, ওয়াশ ব্লক স্থাপন সহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এসবই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে।সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে হবে। একজন শিক্ষককে হতে হবে অনেক বেশি দায়িত্বশীল।
মহান পেশার মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব শিক্ষকদেরই।