Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

১৫ নভেম্বর, ২০২৩ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

নতুন শিক্ষাক্রমের যোগ্যতার শিখন চক্র

অভিজ্ঞতা ভিত্তিক শিখন

যোগ্যতা ভিত্তিক মূল্যায়ন।

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম ২০২২ প্রণয়ন করা হয়েছে।

যোগ্যতার ৪টি উপাদান।

যথা : 

১. জ্ঞান 

২. দক্ষতা 

৩. দৃষ্টিভঙ্গি 

৪. মূল্যবোধ।  

বিষয়টি একটি উদাহরণ এর মাধ্যমে বুঝানো চেষ্টা করছি।

একজন সাধারণ মানুষের গাড়ি চালানোর নিয়ম জানা ও বাস্তবে গাড়ি চালানোর  উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলো। 

জ্ঞান : গাড়ি চালানোর নিয়ম কানুন জানা হলো জ্ঞান। 

দক্ষতা : গাড়ি ভালোভাবে চালাতে পারা হলো দক্ষতা।

দৃষ্টিভঙ্গি : সিগনালে গাড়ি নেই, সার্জেন্ট নেই আপনি নিয়ম মানবেন কি না এটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি। 

মূল্যবোধ : সবসময় নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর প্রতি মনোভাব তৈরি হওয়া এক ধরনের মূল্যবোধ।

যোগ্যতা : নিয়ম কানুন মেনে ভালোভাবে গাড়ি চালাতে পারা হচ্ছে যোগ্যতা।

আমার বিশ্বাস এ প্রকৃয়ায় শিখন হবে বাস্তব মুখি ও হতে কলমে।

তাই, 

শিখন হবে অভিজ্ঞতায়

মূল্যায়ন হবে যোগ্যতায়

যোগ্যতাঃ জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গ ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে অর্জিত হয় যোগ্যতা।

জ্ঞানঃ

জ্ঞান, এক কথায় হল পরিচিতি থাকা, কোন কিছু সম্পর্কে বা কারো বিষয়ে জেনে থাকা বা বুঝে থাকা, হতে পারে কোন কিছুর প্রকৃত অবস্থা, তথ্য, বিবরণ, বা গুনাবলী সম্পর্কে ধারণা থাকা, যেটি অর্জিত হয়েছে উপলব্ধির মাধ্যমে, অনুসন্ধানের মাধ্যমে বা শিক্ষা গ্রহণের ফলে অভিজ্ঞ হওয়ায় বা পড়াশুনা করে।

জ্ঞান বলতে কোন বিষয় সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা থাকাকে বুঝায়। এটা বহিঃপ্রকাশ ধরনের হতে পারে (যেমন ব্যবহারিক গুনাবালী সম্পন্ন বা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন) অথবা বহিঃপ্রকাশ ধরনের নাও হতে পারে (যেমন কোনো বিষয়ে শুধু তাত্ত্বিক দিকটি বোঝা); এটা কম বা বেশি ফর্মাল বা নিয়মার্বতিতা সম্পন্ন হতে পারে।

দক্ষতাঃ

উদাহরণস্বরূপ, দক্ষতা একটি গাড়ি কীভাবে চালনা করতে হয় তা যখন এই পড়ে বা শুনে বা দেখে একজন শিক্ষার্থী জানতে পারে, তার জ্ঞান অর্জিত হয়। ঐ শিক্ষার্থী যদি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশগুলো হাতে-কলমে পরিচালনা করতে শেখে অর্থাৎ গাড়ি সামনে, পেছনে, ডানে বা বামে চালাতে পারে কিংবা ব্রেক করতে পারে, তবে তার দক্ষতা তৈরি হয়। আর যদি সে গাড়ি চালিয়ে নিজের ও রাস্তার সকল মানুষ, প্রাণী ও সম্পদের নিরাপত্তা রক্ষা করে গন্তব্যে পৌঁছানোর সক্ষমতা অর্জন করে, তবে ঐ শিক্ষার্থীর গাড়ি চালনা বিষয়ে যোগ্যতা অর্জিত হয়। 

দৃষ্টিভঙ্গিঃ

জীবনের তালা, জীবনের বন্ধ দরজা খোলার জন্যে যে সঠিক চাবিটির দরকার সেই চাবিটি অর্জন করার জন্যে প্রয়োজন সঠিক জীবনদৃষ্টি।

আসলে সকল বাস্তবতার নির্মাতা মস্তিষ্ককে যথাযথভাবে ব্যবহার করার জন্যে প্রয়োজন সুসংহত মানসিক প্রস্ত্ততি। আর মানসিক প্রস্ত্ততির ভিত্তি হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি, নিয়ত বা অভিপ্রায়। কারণ মন পরিচালিত হয় দৃষ্টিভঙ্গি বা নিয়ত দ্বারা। আর মস্তিষ্ককে চালায় মন।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণা করেছেন মন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক নিয়ে। ড. এলেন গোল্ডস্টেইন, ড. জন মটিল, ড. ওয়াইল্ডার পেনফিল্ড ও ড. ই রয় জন দীর্ঘ গবেষণার পর বলেছেন, একজন প্রোগ্রামার যেভাবে কম্পিউটারকে পরিচালিত করে, তেমনি মন মস্তিষ্ককে পরিচালিত করে। মস্তিষ্ক হচ্ছে হার্ডওয়ার আর মন হচ্ছে সফটওয়ার।

নতুন তথ্য ও নতুন বিশ্বাস মস্তিষ্কের নিউরোনে নতুন ডেনড্রাইট সৃষ্টি করে। নতুন সিন্যাপসের মাধ্যমে তৈরি হয় সংযোগের নতুন রাস্তা। বদলে যায় মস্তিষ্কের কর্মকাঠামো। মস্তিষ্ক তখন নতুন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে নতুন বাস্তবতা উপহার দেয়।

মূল্যবোধঃ

একটি মানবিক গুণ, এটি মানবিক গুনাবলির সব থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি গুণ। এই গুণের কারণেই আমরা মানুষ হিসেবে ভালো চরিত্রের অধিকারি হয়ে থাকি। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে ভালো-মন্দ, ঠিক-ভুল সম্পর্কে সমাজের মানুষের যেই ধারনা তাকেই মূলত মূল্যবোধ বলা হয়। মূল্যবোধ এর সৃষ্টি হয়ে থাকে কিছু আচরনের উপর ভিত্তি করে।

মন্তব্যঃ এই শিখন সময়ের সাথে নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশাবাদী।

এটি বিশ্বায়নে সময়ের দবি, বৈশিক নাগরিক তৈরি করার পথ অবলম্বন।

মন্তব্য করুন