Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

০৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

নতুন কারিকুলাম নিয়ে বেশিরভাগ সমালোচনাকারীর কিছু উত্তর
নতুন কারিকুলাম নিয়ে বেশিরভাগ সমালোচনাকারী কারিকুলাম ভালোভাবে না বুঝেই সমালোচনা করে যাচ্ছেন। কোনো কিছু সম্পর্কে সমালোচনা করতে আগে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নিতে হয় এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা উচিৎ। শিক্ষক প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের নাচগান নিয়ে ট্রলমূলক পোস্ট দিচ্ছে আর বলছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নাকি শেষ। আফসোস হচ্ছে তাদের জন্য। যারা শিক্ষক প্রশিক্ষণে কখনও অংশগ্রহণ করেই নাই তারাই শিক্ষকদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে যাচ্ছেন। যারা ট্রল করেছেন তাদের উদ্দেশ্য বলছি এই নাচ গান বা রান্নাবান্না এগুলো এই কারিকুলামের কোনো অংশই না। মনে রাখবেন নতুন কারিকুলাম এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী মেগা সাহসী পদক্ষেপ যার সুফল এই জাতি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মত ভবিষ্যতে পাবে। এখন পরিবর্তনটা আমরা মেনে নিতে পারছি না।
মাওশির ট্রেনিং উয়িং এর ডিডি ড. মোনালিসা খান ম্যাডামের পোস্ট থেকে...
আসলে "নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের দৃষ্টিভংগীর পরিবর্তন। ধরুন আর কিছু না হলেও তো এই যে শিক্ষার্থীর মুখের এই হাসি, তা তো অন্তত দেখতে পাচ্ছি। যে শিক্ষার্থী কিনা মজা করে তাদের বার্ষিক পরীক্ষার গল্পটা আমাদেরকে শোনাচ্ছে। তাদের মধ্যে কোন পরীক্ষাভীতি নেই। পরীক্ষাভীতি নিশ্চয়ই ভালো কিছু নয়। বর্তমান কারিকুলামে পরীক্ষার দিনটা আনন্দময় হয়েছে।এটুকুও তো কম না।
এটা ঠিক আমাদের অভিভাবকরা চিন্তিত তাদের সন্তান আদৌ কিছু শিখছে কিনা। এখন আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাবা-মায়ের সেই উদ্বেগ দুর করা। আর সেটা যতক্ষন দুর না করতে পারছি, আমাদের বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন হবেনা। আর এই কাজটি আমরা করছি। এবং তা চলমান রয়েছে। তবে অভিভাবকদের যে জায়গায় সহযোগিতা জরুরি তা হলো তাদের সন্তান হাসিখুশি আছে কিনা আপাতত সেটির খোঁজ রাখা।
জানেন তো আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন আনন্দে থাকে, হাসিখুশি থাকে, তখন তারা সবচাইতে বেশি learning input recieve করতে পারে। এটা আমার কথা নয়। Stephen Krashen তাঁর Affective Filter Hypothesis এ বলেছেন "stress, anxiety, boredom, lack of motivation create a psychological filter that reduces a student's ability to absorb comprehensible input"
এই যে চারদিকে এত সমালোচনা, এত ব্যংগাত্মক কথা, এত শ্লেষ, জনপ্রিয়তা হারানোর ঝুঁকি..এত কিছুর পরেও আমাদের শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্য এই কারিকুলাম যত তাড়াতাড়ি বাস্তবায়ন হবে, ততই তাদের মংগল, সেই ভাবনাকে মাথায় নিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ডা. Dipu Moni র নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করছি এর পেছনে কিন্তু একটাই উদ্দেশ্য। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবর্তিত বিশ্বে টিকে থাকার জন্য কাম্য যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা। একজন সুনাগরিক হতে হলে তার যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছু দেয়া। এই কাজে আপনিও যুক্ত হয়ে আপনার সুন্দর সব পরামর্শ দিতে পারেন। আর সেই পরামর্শ নেবার জন্য, গ্রহন করবার জন্য কারিকুলামকে বলা হচ্ছে এই কারিকুলাম "নমনীয়" এবং "অন্তর্ভূক্তিমূলক"।
শুধু সমালোচনা করার জন্য করা নয়। গঠনমূলক সমালোচনা করুন। শিক্ষককে সম্মান করুন। একটা বিষয় মনে রাখবেন, যেদিন আপনি শিক্ষক সম্পর্কে আপনার সন্তানের সামনে নেতিবাচক কথা বলবেন, তাকে অসম্মান করবেন, সেদিন থেকে সেই শিক্ষকের কোন কিছুই আপনার সন্তান আর গ্রহন করতে পারবেন না। এমনকি অন্য শিক্ষকের দেয়া শিক্ষাও না।
শিক্ষা নিয়ে যখন বলবেন, ভাষার ব্যাপারে একটু খেয়াল রাখবেন। তা যেন আপনার ইতিবাচক দৃষ্টিভংগীকে প্রকাশ করে।"
মন্তব্য করুন