Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

২৩ মে, ২০২৪ ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যালয়ে পরিবেশ উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও পাঠদানে পরিবেশ বন্ধু

ইনোভেশন আইডিয়া শিরোনাম: বিদ্যালয়ে পরিবেশ উন্নয়ন,  সংরক্ষণ ও পাঠদানে "পরিবেশ বন্ধু"।

=====================

কার্যপ্রণালিঃ 

১। প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে প্রধান উপদেষ্টা,  সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার প্রধান ও  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে উপদেষ্টা করে, কাব ইউনিট লীডারকে দলনেতা ( কাব লীডার না থাকলে অন্য শিক্ষক) করে এসএমসি, পিটিএ, স্লিপ কমিটি, সামাজিক মূল্যায়ন কমিটি,   স্টুডেন্টস কাউন্সিল এর পরিবেশ মন্ত্রী---কে অন্তর্ভুক্ত করে প্রত্যেক কমিটি থেকে অন্তত একজন করে নিয়ে,  তৃতীয় ---- পঞ্চম প্রতি শ্রেণির  ৫ জন করে শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ে একটি 'পরিবেশ বন্ধু কমিটি' গঠন করা হবে। যার মেয়াদ হবে এক বছর।


২। জানুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহে সুবিধামত দিনে এই কমিটির একটি সভা করে পরবর্তী ৬ মাসের কার্যক্রম নির্ধারণ করতে হবে। যেমন; প্রতিদিন সমাবেশের পর অর্থাৎ পাঠদানের পূর্বে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার,  প্রতি রবিবার বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা পরিষ্কার, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা, মা সমাবেশে অভিভাবকদের সাথে পরিবেশ বন্ধু নিয়ে আলোচনা, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশ বন্ধু, কাব স্কাউট, স্টুডেন্ট কাউন্সিল কে সাথে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, বিদ্যালয়ের চারপাশে ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানো ইত্যাদি।

৩। প্রতি তিন মাস অন্তর একটি সভা করে কার্যক্রমের তদারকি করা। প্রয়োজনে নতুন কার্যক্রম সংযোজন করা। 


৪। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে "পরিবেশ বন্ধু" কমিটির সবাইকে এবং শ্রেণি শিক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে যারা পরিবেশ রক্ষায় সারা বছর  বিশেষ অবদান রেখেছে তাদেরকে পুরস্কৃত করা।


৫। পুরস্কারের জন্য দলনেতা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য কমিটির সাথে সমন্বয় করে তহবিল সংগ্রহ করবেন।


৬। প্রতিবছর  ৩১ ডিসেম্বর  কমিটির মেয়াদ শেষ হবে এবং পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণি শিক্ষক বিদ্যালয়ের কাব ইউনিট  লীডারের পরামর্শ নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করবেন।


সুবিধাঃ

==========

১. জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।


২. বর্তমান পৃথিবী ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে তাই এই ধারণা বাস্তবায়নের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা কয়েক বছরের মধ্যে সহনশীল পর্যায়ে চলে আসবে।  

৩. বাংলাদেশে প্রায় ৬৫০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রতি বছর ৫ টি করে চারা গাছ রোপন করলে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩২৫০০০ গাছ রোপন করা হবে। 


৪. শিক্ষার্থী পরিবেশ দূষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করবে।


৫. শিক্ষার্থী পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন হবে যা জীবনব্যাপী চলমান থাকবে ফলে শিক্ষার্থী রোগ ব্যাধিতে আক্রা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।


৬.  পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ধারণা অর্জনের ফলে বিদ্যালয় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকবে ফলে উপযুক্ত শিখন পরিবেশ তৈরি হবে ও  বিদ্যালয় বিমুখ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মূখী হবে।


৭. শিক্ষার্থী পূর্বের তুলনায় অধিকতর পাঠে মনোযোগী হবে।


৮. শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের প্রতি অনীহা দূরীভূত হবে।


১০. শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা শিখবে। যা শিক্ষার্থীর সমগ্র জীবনে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে। 

১১.এই ধারণা বাস্তবায়নের ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের বন্ধুর বাড়িতে একটি করে বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে বন্ধুর স্মৃতি ধরে রাখবে। ফলে একজন শিশুর প্রতি অন্য শিশুর ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

১২. এই ধারণা বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক শিক্ষার রোল মডেলে পরিনত হবে পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা বেড়ে যাবে। 


১৩. সারা দেশে এই ধারণা বাস্তবায়নের ফলে প্রতিবছর যদি ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী একটি করে গাছ রোপন করে তাহলে এক কোটির অধিক গাছ রোপন করলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয় যেমন রোধ হবে তেমনি কাঠ জাতীয় শিল্পের দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। 


মন্তব্য করুন