Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

১০ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

শ্রেণি কক্ষে শিশুদের বর্ণের সপ্ত স নিশ্চিত করি, হাতের লেখা সুন্দর করি।

উদ্যোগ গ্রহণ করায় শিশুদের সপ্ত স নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় শতভাগ শিশুর লেখা চমৎকার হয়েছে। বড় হয়ে সুন্দর লেখা হয়ে থাকে সেটা প্রমাণিত হয়েছে।


আমার উদ্ভাবনী গল্পের নাম -

"শ্রেণিকক্ষে শিশুদের বর্ণের সপ্ত স নিশ্চিত করি , হাতের লেখা সুন্দর করি।"

## ছোট্ট শিশুরা কাঁদামাটির মতো। হাঁটি হাঁটি পা পা করে যখন একটি শিশু বড়ো হয়, বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার উপযোগী হয় তখন নিকট পরিবেশের পাশাপাশি বিদ্যালয় থেকে অনেক নতুন নতুন বিষয় বা কৌশল রপ্ত করতে শেখে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি থেকেই যদি একজন শিশুকে পড়া ও লেখা শেখার উপযুক্ত কৌশল রপ্ত করানো যায় তাহলে তা তাদেরকে পরবর্তী শ্রেণির জন্য বিশেষভাবে তৈরি হতে সহায়তা করে।

প্রাক - প্রাথমিক শ্রেণিতে খেলাধুলা, পড়া  ও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি লেখা শুরুর কৌশলের দিকে শিক্ষককে অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হয়। আর সে লক্ষ্যেই আমি শ্রেণিকক্ষে নিজ উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সহায়তায় সুন্দর হাতের লেখার কৌশলের উপর বিশেষ জোর দেই।


## সুন্দর হাতের লেখা অনুশীলন করানোর জন্য অভিভাবকের সমন্বয়ে আমি কাজ করতে চেষ্টা করি। আমি বর্ণ গুলো কিভাবে লিখতে হয় তা অভিভাবকের সাথে শেয়ার করি 

(ভিডিও কনটেন্ট)। 

বোর্ডে চক দিয়ে বর্ণ লেখার প্রবাহ দেখাই যাতে পরবর্তীতে অভিভাবকগন বুঝতে পারেন। বাড়ীতে শিক্ষার্থী যখন লিখবে তখন অভিভাবক লেখার সময় খেয়াল রাখবেন প্রবাহ ঠিক হচ্ছে কি না, এভাবে দিক নির্দেশনা দেই। প্রাক- প্রাথমিক  শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী  যখন অন‌্য শ্রেণিতে পড়বে তখন তাদের এই সঠিক বর্ণ প্রবাহ অনুসরণ অব্যাহত থাকবে।


##আমি প্রতিদিন অবসর সময়ে শিক্ষার্থীদের খাতায় ২ থেকে ৩ টি  করে বর্ণ বা শব্দ লিখে দিতে চেষ্টা করি। প্রতিটি শিশুর জন্য খাতা প্রয়োজন হবে দুইটি করে একটি খাতা বিদ্যালয়ে আমার কাছে থাকবে এবং আরেকটি খাতা শিক্ষার্থীদের কাছে। প্রতি পাক্ষিকে একবার অভিভাবকগণকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলি এবং শিক্ষার্থীরা বাড়ীতে কিভাবে লিখছে সেটা  উপস্থাপন করার জন্য বিশেষভাবে সহায়তা করি।


## আমি শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস ব্যবহার করার মাধ্যমে বর্ণের সঠিক প্রবাহ দেখিয়ে শিশুদেরকে লেখায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। এতে শিক্ষার্থীরা লেখায় অনেক আনন্দ পায় ও আগ্রহী হয়ে ওঠে। সবচেয়ে সুন্দর হাতের লেখা যার তাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য নিজ উদ্যোগে ছোটোখাটো পুরস্কারের ব্যবস্হা করি। আর বাকি সকলের জন্য থাকে সান্ত্বনা পুরস্কার।


##শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই যদি শিক্ষার্থীরা বর্ণের সঠিক প্রবাহ মেনে লেখা আয়ত্ব করতে পারে তাহলে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে সুন্দর  হাতের লেখায় কোনো অনীহা বা অনাগ্রহ দেখা দেবেনা এবং এর অনুশীলন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবে।

আনন্দের মাধ্যমে যে কোনো পাঠদান শিশুদেরকে পাঠে অনেক মনোযোগী ও স্হায়ী করে তোলে, তাই শিশুদের ভয়কে জয় করে ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ে আনন্দের মাধ্যমে লেখার সঠিক কৌশল প্রয়োগ করলে তাদের শিখন স্হায়ী ও ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি।

এতোক্ষণ আমার সাথে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

মোঃ সাইদুর রহমান টুটুল 

সহকারী শিক্ষক 

হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ। 

[email protected]

মন্তব্য করুন