Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

০৫ নভেম্বর, ২০২৪ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

আমার উদ্ভাবনী গল্পের নাম "Rhyming birds"। "চেষ্টা করি পারব ঠিকই, শুদ্ধ করে ভাষা শিখি"- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আমি আমার উদ্ভাবনী আইডিয়াটি নিয়ে কাজ করছি।


 

আমি জাহানারা নাসরিন 

সহকারী শিক্ষক 

দক্ষিণ পশ্চিম চরফকিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,

কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

আমার উদ্ভাবনী গল্প- ০২-এ সবাইকে স্বাগত। আমার উদ্ভাবনী গল্পের নাম "Rhyming birds"। 

"চেষ্টা করি পারব ঠিকই, শুদ্ধ করে ভাষা শিখি"- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আমি আমার উদ্ভাবনী আইডিয়াটি নিয়ে কাজ করছি।

 

আমার বিদ্যালয়টি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একেবারে দক্ষিণে একটি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতার উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে আমি প্রতিনিয়ত যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি তা হলো- পড়া এবং বলার ক্ষেত্রে প্রচুর অমনোযোগিতা আর উদাসীনতা। আমার গভীর পর্যবেক্ষণ এবং  মূল্যায়নে "পড়া ও বলা" এই দুটো ভাষা দক্ষতায় বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের বিরাট ঘাটতি লক্ষ্য করলাম। তাদের ভাষা দক্ষতার উন্নয়ন নিশ্চিত করাটা আমি এক প্রকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

 

আমাদের দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলা বিষয় ছাড়া অন্যান্য বিষয় শেখার মাধ্যমও কিন্তু বাংলা। তাই বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন একজন শিক্ষার্থীকে তার ভবিষ্যৎ জীবনে ব্যবহারিক ও কারিগরি বিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের অনুকূল ভিত্তি প্রস্তুত করে দেয়। একই সঙ্গে ভাষিক দক্ষতা শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে এবং স্বদেশ ও বিশ্ব, সমাজ ও সংস্কৃতি, সাহিত্য ও শিল্প ইত্যাদি সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলে। 

 

আমি মনে করি ভাষা দক্ষতার উন্নয়নের ক্ষেত্রে 'শোনা'র পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো 'পড়া' যার মধ্যে বলার দক্ষতাও লুকিয়ে থাকে। আমরা যা পড়ছি তা সঠিকভাবে উচ্চারণও করতে হয়।

 

পাঠ করার দক্ষতা আসলে একটা শৈল্পিক ব্যাপার, যাকে বলে বাচিক শিল্প। আগ্রহ এবং অভ্যাস এই দুইয়ের মেলবন্ধনে পাঠের দক্ষতা বৃদ্ধি সম্ভব।

আমার আইডিয়াটির বাস্তবায়ন কৌশলঃ 

২য় - ৫ম প্রতিটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের আমি কয়েকটি দলে ভাগ করি। ময়না, টিয়া, কোকিল, শালিক, দোয়েল পাখির নামে  দলগুলোর নামকরণ করি। আমার নিজের দুটো একক ছড়াগ্রন্থ ও একটি যৌথ ছড়াগ্রন্থ রয়েছে। আমি প্রত্যেক দলের দলনেতার হাতে একটি করে বই তুলে দিই। দলনেতা দলের সবাইকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে ছড়া কবিতা সিলেক্ট করে দেয়। সকল শিক্ষার্থী ছড়াটি যার যার নোটবুকে লিখে নেন। সপ্তাহে একদিন সকল শিক্ষার্থীকে নিয়ে আমরা ছড়া উৎসবের আয়োজন করি। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে এই উৎসবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখি। আমি প্রথমে তাদের সামনে স্পষ্ট, শুদ্ধ ও প্রমিত উচ্চারণে ছড়াটি পাঠ করি। তারপর ছড়াটি আবৃত্তি করি। এরপর সকল শিক্ষার্থীকে তা অনুশীলন করতে সহায়তা করি। পরের সপ্তাহে কয়েকজন আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ছড়াটি আবৃত্তি করে তার ভিডিও ধারণ করে আনতে বলি। আবৃত্তিগুলো সবার সামনে উপস্থাপন করি। প্রত্যেক দল থেকে সেরা একজন বাচিক শিল্পীকে পুরস্কৃত করি। বাকিদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ফিডব্যাক দিই। 

 

সফলতাঃ এভাবে কিছুদিন যেতে না যেতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়া পাঠ এবং আবৃত্তির প্রতি ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করি। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতার উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের দেয়ালিকা প্রকাশ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও গল্পবলা প্রতিযোগিতার সাথে সম্পৃক্ত করে আমি অসাধারণ সফলতা দেখতে পাই। আমার শিক্ষার্থীরা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন, দেয়ালিকা প্রকাশ প্রতিযোগিতায় উপজেলা চ্যাম্পিয়ন এবং আবৃত্তি আর গল্পবলা প্রতিযোগিতায় জেলাতেও পুরস্কৃত হয়েছে।

 

 শিক্ষার্থীর চিন্তা- চেতনা, ভাবনা, কল্পনার প্রসার ঘটে পঠনক্রিয়ার মাধ্যমে। শিক্ষা যেহেতু জীবনব্যাপী ধারাবাহিক প্রক্রিয়া তাই মানব জীবনে পঠনের প্রভাব খুব বেশি। ছড়া কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তাদের শোনা, বলা, পড়া তিনটি ভাষা দক্ষতারই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি মনে করি।

সুবিধাসমূহঃ 

১। শিক্ষকদের দেওয়া আদর্শ সরব পাঠ ও আবৃত্তি শিক্ষার্থীদের শোনার দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে উচ্চারণ শিক্ষায যথেষ্ট সাহায্য করে।

২। আবৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীরা পড়া এবং সঠিক উচ্চারণের প্রতি মনোযোগ দেয়। ফলে  তারা সঠিক উচ্চারণে পড়া ও বলায় দক্ষ হয়ে ওঠে।

৩। ছন্দোবদ্ধ ছড়া কবিতা শিশু প্রকৃতির সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণে সাহায্য করে।

৪। সঠিক বাচনভঙ্গি ও কথন-শৈলী বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৫। উচ্চারণে আঞ্চলিকতা দোষ দূর করতে সাহায্য করে।

৬। পরিমার্জিত রুচিশীল ভাষা প্রয়োগে উৎসাহী করে।

৭।ছড়া কবিতা পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রসচেতনা, সংগীতধর্মিতা, চিত্রধর্মিতা বিশেষভাবে জাগরিত  হয়।

৮। আবৃত্তির ভিডিও ধারণ করার আনন্দ খুব সহজেই তাদের ছড়া কবিতা পড়া ও শোনার ক্ষেত্রে উৎসাহী ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

ধন্যবাদ সবাইকে।

মন্তব্য করুন