সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৬:০৪ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্কুল এন্ড কলেজ) এ যোগদানের দিন থেকেই স্বপ্ন বুনা শুরু করি। সেই স্বপ্নের এক পর্যায়ে স্কুল প্রাঙ্গনে একটি বাগান করার ইচ্ছা পোষণ করি। জয়েন করার আগে বাগান করার মতো জায়গা ছিল, কয়েকটি গেন্দা ফুল লাগানো ছিল। অধ্যক্ষ মহোদয় এই ব্যপারে খুবই আন্তরিক ছিলেন। যারফলে আমার বাগান করাতে কোন অসুবিধা হয়নি। বরং অধ্যক্ষ মহোদয় আরো কিছু ফান্ডিং করেন।
আমার বাগান বাস্তবে রূপ নিলো। তারপর ভাবতে থাকি কিভাবে আমার শিক্ষার্থীকে এখানে অন্তর্ভূক্ত করা যায়। কিছু ফুলের চারা আহবান করলাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বেশ সাড়া পেলাম। বিভিন্ন ধরনের চারা শিক্ষার্থীর আনলো এবং তাদের নিজের হাতে রোপন করলো।
পরবর্তী পদক্ষেপে যত্ন নেয়াকে গুরুত্ব দিলাম। আমি খুব সকালে স্কুলে যেতাম এবং আমার ভক্ত শিক্ষার্থী ও সৃজনশীল মনের শিক্ষার্থীদের সকালে আসতে বলতাম। কেন্দুয়া কামারশালা থেকে ৫টি নিড়ানী কিনে নিয়ে গেলাম। নিজেকে দিয়ে শুরু করলাম। তারপর আমার শিক্ষার্থীরা শুরু করলো।
কিছুদিন পরথেকে আমার আর নিড়ানী হাতে নিতে হয়নি। শিক্ষার্থীরা পালাক্রমে কাজ করে। কাজ করার সময় আমি কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করতাম। ওরা অনেক সুন্দর উত্তর দিতো। পুরো কাজ ছিল একটি কৃষি ব্যবহারিক ক্লাসের মতো। ওদের যত্নে যখন বাগানের চারাগুলো বৃদ্ধিপেতে শুরু করলো তখন শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, ভালবাসা, আন্তরিকতা ও সেবা বেড়ে গেলো। তার কাউকে একটা পাতা-ফুল ছিড়তে দিতো না, প্রতিদিন সকলকে সচেতন করতো, অতন্ত্র প্রহরীর মতো পাহাড়া দিতো। প্রথম দিকে কিছুটা কষ্ট হলেও কিছুদিনের মধ্যেই সফলতা আসলো।
বর্তমানে আমার উপজেলা ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমার প্রতিষ্ঠানটি সবুজায়ন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে শ্রেষ্ঠ। সকল কিছু সম্ভব হলো শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার মাধ্যমে। আমি শিক্ষার্থীদের মনে ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি এবং পুরোটাই ভালবাসা ও তাদের সাথে বন্ধুসূলভ আচরণের মাধ্যমে। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠানে আমবাগান, দুইটি ফুলবাগান ও একটি সবজি বাগান রয়েছে। যার সবগুলোই শিক্ষার্থীরা কাজ করার মাধ্যমে দেখে রাখে, আগলে রাখে, যত্নে রাখে। এ বছর প্রচুর ফলন পেয়েছি। (ধারাবাহিক ভাবে সবগুলো গল্প আসবে ইনশাল্লাহ)
অধ্যক্ষ ছাড়াও আমার এই কাজে বিভিন্ন ফুলের কাটিং প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছেন আমার সিনিয়র সহকর্মী, গণিত বিষয়ের স্কুল শাখার শিক্ষক জনাব জহিরুল ইসলাম খন্দকার(বাচ্চু স্যার)। তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে খুশি মনে প্রফেশনাল কৃষকের মতো কাজ করেছেন। এই পোস্টের মাধ্যমে স্যারকে শ্রদ্ধা জানাই।
অল্প সময়ে অনেক পরিবর্তন আসছে আমার কর্মরত প্রতিষ্ঠানে এবং সবগুলো এটুআই ও শিক্ষক বাতায়নের সথে মেশা গুণী শিক্ষককে অনুকরণের মাধ্যমে। বাতায়নে আপলোডকৃত বিভিন্ন সফলতার গল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দেখতাম আর আর স্বপ্ন বুনতাম আমি যদি এমনটা পারতাম। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেই সুযোগ করে দিচ্ছেন। কৃতজ্ঞতা মহান প্রভু তোমার প্রতি।
আমি এটুআই ও শিক্ষক বাতায়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
মো. আনোয়ার উদ্দীন হিরন
সহকারী প্রধান শিক্ষক
সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্কুল এন্ড কলেজ)
কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।
01711129709