সহকারি সুপার
৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:২৫ অপরাহ্ণ
সহকারি সুপার
আমার শিক্ষার্থীই আমার গল্প।
আমার দৃষ্টিতে আমার শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন নয়, বরং জ্ঞানের আবিষ্কারক। যখন তাদের চিন্তা, সংযোগ, সংশোধন এবং তৈরি করার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয় তখন তারা তাদের সর্বোত্তমটাই দেয়। তাদের কিছু সহযোগিতা করলে তারা জ্ঞান উৎপাদকও হতে পারে।আমি সময়ে সময়ে তাদের শুভানুধ্যায়ী হয়ে তাদের আবিষ্কার শিখি।
এক কথায় আমার ধারণায় কোন শিক্ষার্থী জন্ম থেকে অপারক হয়ে জন্মায় না।
বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই জ্ঞান সন্ধানী। তাদের জানার আগ্রহ, চর্চা এবং গবেষণা রিপোর্ট অত্যন্ত সৃজনশীল। তাদের সঠিক পরিস্থিতিতে সঠিক সুযোগ দেওয়া গেলে সহজেই দারুণ কিছু আইডিয়া নিয়ে আসে।
কিছু শিক্ষক আছেন যারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেরাটি বের করে আনতে পারেন। তবে সব শিক্ষক তা পারেন না। নিত্যনৈমিত্তিক ক্লাস করতে করতে শিক্ষার্থীরা প্রায়শই হতাশ, অমনোযোগী, উদাসীন হয়ে পড়ে এবং নিঃসঙ্গ অনুভব করে। এর অর্থ স্পষ্টতই তারা কিছুই শিখছে না। ফলস্বরূপ, তারা অমনোযোগী হয়ে যায় এবং উদ্যম ও সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলে।
সাধারণ শিক্ষকদের পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং মূল্যায়নের কৌশলগুলোও খুব দুর্বল। তারা মুখস্থকরার ওপর জোর দেন। ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থীরা তাদের সুপ্ত প্রতিভা দেখানোর সুযোগ আর পায় না।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের কলা সম্পর্কে জানতে সহযোগিতা করলে তারা রস আস্বাদন করতে পারে।
তারা সৃজনশীল। সৃজনশীলতা তাদের জিনে রপ্ত।
আমি এক এক জন শিক্ষার্থীকে এক এক বিষয়ে ভীষণ রকম আগ্রহী হতে দেখেছি।তারা সেই সব বিষয়ের আভ্যন্তরীণ তথ্য জানতে কখনই শ্রেণি শিক্ষকদের পড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতো না।বরং ক্লাসে তারাই আগে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ক্রিটিকাল থিংকিং এর সমাধানটা করতো।
তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি গতানুগতিক দায়িত্ব পালন না করে গুরুত্বসহকারে পাঠ্য আলোচনা ও মত প্রকাশের পদ্ধতি অবলম্বন করে পাঠদান করা উচিত বলে মনে করি। তাদের বাস্তব জ্ঞানে মনোনিবেশ করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে আমাদের একটি কমপ্যাক্ট গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা প্রয়োজন।তাদের এই শিক্ষাই আমাদেরকে জব মার্কেটে প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
শিক্ষার্থীদের এটা মনে করানো দরকার যে, তারা একটি যত্নবান প্রতিষ্ঠানের অংশ।