সহকারী শিক্ষক
২৬ আগস্ট, ২০২৫ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
মনিরুল হক,
আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট, মোবাইল গেম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময় কাটানোর জন্য এগুলোর ব্যবহার অনেক সময় আনন্দ ও বিনোদনের উৎস হলেও, নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা মারাত্মক আসক্তি এবং ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা সহজেই মোবাইল গেম, ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম প্রভৃতিতে ডুবে যায়। এর ফলে তারা তাদের মূল কাজ—শিক্ষা, চরিত্র গঠন এবং সুস্থ মানসিক বিকাশ—থেকে ধীরে ধীরে বিচ্যুত হতে থাকে।
শিক্ষার্থীদের আসক্তির দিক
১. অতিরিক্ত সময় ব্যয় – গেম বা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানো পড়াশোনার ক্ষতি করে।
২. নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি – ইন্টারনেট বা মোবাইল ছাড়া থাকতে না পারা, যা
মানসিক আসক্তির লক্ষণ।
৩. সামাজিক স্বীকৃতির লোভ – লাইক, কমেন্ট, ফলোয়ার বা গেমে লেভেল বাড়ানোর
প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি হয়।
৪. ঘুম ও রুটিন নষ্ট হওয়া – রাতে দেরি করে গেম খেলা বা সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে সময় কাটানোর কারণে ঘুম কমে যায় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
ক্ষতিকর দিকসমূহ
১. শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব
অতিরিক্ত আসক্তির কারণে মনোযোগ নষ্ট হয়, পরীক্ষার ফল খারাপ হয়, এমনকি পড়াশোনার
প্রতি অনাগ্রহ জন্মায়।
২. মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি
দীর্ঘ সময় ভার্চুয়াল জগতে ডুবে থাকা থেকে একাকিত্ব, হতাশা, উদ্বেগ ও হীনমন্যতা
বাড়ে। অনেক সময় হিংসা, রাগ ও মানসিক অস্থিরতাও দেখা দেয়।
৩. শারীরিক সমস্যা
অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, স্থূলতা এবং ঘাড় ও
কোমরে ব্যথা দেখা দেয়।
৪. বাস্তব সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল
হওয়া
শিক্ষার্থীরা বন্ধু-বান্ধব, পরিবার থেকে দূরে সরে যায় এবং ভার্চুয়াল জগৎকে আসল
জীবন ভেবে বসে।
৫. অশালীন কন্টেন্টে আসক্তি
অনেক সময় ক্ষতিকর ওয়েবসাইট, হিংসাত্মক গেম বা অশ্লীল কনটেন্টে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
থাকে, যা চরিত্র ও নৈতিকতার জন্য ক্ষতিকর।
৬. অর্থনৈতিক ক্ষতি
গেমের ভেতরে টাকা খরচ করার প্রবণতা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অবিবেচনাপ্রসূত ব্যয়
পরিবারে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিকার ও করণীয়
ইন্টারনেট, মোবাইল গেম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ খারাপ নয়; বরং এগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে জ্ঞান আহরণ ও যোগাযোগের একটি বড় মাধ্যম হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার ও আসক্তি শিক্ষার্থীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিক ভারসাম্য ও সামাজিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে এবং প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবহার করতে হবে।
মনিরুল হক
০১৭২২ ২৭৩২৭২