সহকারী শিক্ষক
২৮ আগস্ট, ২০২৫ ১১:২০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৩
মনিরুল হক,
ডিকোডার ও এনকোডার: ডিজিটাল ডিভাইসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানঃ
ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্সের ভেতরে এমন কিছু ডিভাইস আছে যেগুলো তথ্যকে একভাবে পরিবর্তন করে আরেকভাবে উপস্থাপন করে। এই ধরনের ডিভাইসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত দুটি হলো ডিকোডার (Decoder) এবং এনকোডার (Encoder)। এগুলো মূলত কম্পিউটার, ক্যালকুলেটর, মেমোরি ডিভাইস, ডিসপ্লে ইউনিটসহ নানান সার্কিটে ব্যবহৃত হয়।
ডিকোডার (Decoder)ঃ
ডিকোডার কী?
ডিকোডার হলো একটি কম্বিনেশনাল লজিক সার্কিট যা ইনপুট সিগন্যাল গ্রহণ করে নির্দিষ্ট কোড বা প্যাটার্নকে শনাক্ত করে আউটপুটে পাঠায়। সহজভাবে বললে, ডিকোডারের কাজ হলো বাইনারি ইনপুটকে ডেসিম্যাল বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট আউটপুটে রূপান্তর করা।
উদাহরণ:
ধরা যাক, একটি 2-to-4
ডিকোডার। এখানে 2 বিট ইনপুট দেওয়া হলে 4টি সম্ভাব্য আউটপুট পাওয়া যায়। কোন ইনপুট কম্বিনেশন সক্রিয়
হবে তার ওপর নির্ভর করে একটিমাত্র আউটপুট "1" হবে, বাকিগুলো "0" থাকবে।
ডিকোডারের ধরনঃ
1. 2-to-4 Decoder
o ইনপুট: 2 বিট
o আউটপুট: 4 লাইন
o ব্যবহার: মেমোরি সিলেকশন, ডেমাল্টিপ্লেক্সার
2. 3-to-8 Decoder
o ইনপুট: 3 বিট
o আউটপুট: 8 লাইন
o ব্যবহার: CPU নির্দেশনা ডিকোড করা, ডিসপ্লে কন্ট্রোল
3. 4-to-16 Decoder
o ইনপুট: 4 বিট
o আউটপুট: 16 লাইন
o ব্যবহার: বড় মাপের ডিভাইসে ঠিকানা (address) ডিকোডিং
ডিকোডারের ব্যবহারঃ
এনকোডার (Encoder)ঃ
এনকোডার কী?
এনকোডার হলো একটি কম্বিনেশনাল লজিক সার্কিট যা একাধিক ইনপুট গ্রহণ করে একটি সংক্ষিপ্ত বাইনারি কোড আউটপুট হিসেবে দেয়। অর্থাৎ, অনেকগুলো ইনপুট লাইনকে কম সংখ্যক আউটপুট লাইনে রূপান্তর করে।
উদাহরণ:
ধরা যাক, একটি 8-to-3
এনকোডার। এখানে 8টি ইনপুট থাকলেও আউটপুট হবে মাত্র 3 বিট, যা ইনপুট লাইনের সক্রিয় অবস্থার কোড নির্দেশ করবে।
এনকোডারের ধরনঃ
1. 4-to-2 Encoder
o ইনপুট: 4 লাইন
o আউটপুট: 2 বিট
o ব্যবহার: ছোট সার্কিটে ডাটা সংকোচন
2. 8-to-3 Encoder
o ইনপুট: 8 লাইন
o আউটপুট: 3 বিট
o ব্যবহার: কীবোর্ড বা সেন্সরের আউটপুট সংকেতকে বাইনারিতে রূপান্তর
3. Priority Encoder
o ইনপুট: একাধিক লাইন
o আউটপুট: বাইনারি কোড
o বৈশিষ্ট্য: যদি একাধিক ইনপুট একসাথে সক্রিয় হয়, তবে উচ্চ প্রাধান্যপ্রাপ্ত (priority) ইনপুটকে গ্রহণ করবে।
এনকোডারের ব্যবহারঃ
ডিকোডার বনাম এনকোডারঃ
|
বিষয়
|
ডিকোডার (Decoder)
|
এনকোডার (Encoder)
|
|
কাজ |
বাইনারি ইনপুটকে নির্দিষ্ট আউটপুটে রূপান্তর করে |
একাধিক ইনপুটকে সংক্ষিপ্ত বাইনারি আউটপুটে রূপান্তর করে |
|
ইনপুট-আউটপুট |
n ইনপুট → 2ⁿ আউটপুট |
2ⁿ ইনপুট → n আউটপুট |
|
ব্যবহার |
মেমোরি অ্যাড্রেস ডিকোডিং, ডিসপ্লে |
কীবোর্ড, ডাটা কম্প্রেশন |
|
উদাহরণ |
2-to-4, 3-to-8 Decoder |
4-to-2, 8-to-3 Encoder |
ডিকোডার ও এনকোডার মূলত বিপরীতমুখী কাজ করে। ডিকোডার যেখানে ছোট ইনপুট থেকে অনেক আউটপুট তৈরি করে, এনকোডার সেখানে অনেক ইনপুট থেকে কম সংখ্যক আউটপুট তৈরি করে। ডিজিটাল সার্কিটের ডাটা প্রসেসিং, মেমোরি ম্যানেজমেন্ট, ডিসপ্লে কন্ট্রোল, ইনপুট ডিভাইস প্রসেসিং—সব ক্ষেত্রেই এদের গুরুত্ব অপরিসীম।
মোঃ মনিরুল হক
সহকারী শিক্ষক
আমলাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
খোকসা, কুষ্টিয়া
০১৭২২২৭৩২৭২