Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ফুলের পরাগায়ন ছবি

ফুলের পরাগায়ন (Pollination) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ফুলের পুংকেশর (Stamen) থেকে স্ত্রীকেশরের (Carpel) অগ্রভাগে (Stigma) পরাগরেণু (Pollen grain) স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গর্ভাধান (Fertilization) সংঘটিত হয় এবং বীজ গঠিত হয়।


🌸 পরাগায়নের ধরন

পরাগায়ন মূলত দুই ধরনের —

১. স্বপরাগায়ন (Self-pollination)

যখন একই ফুলের বা একই গাছের অন্য ফুলের পুংকেশর থেকে পরাগরেণু স্ত্রিকেশরে স্থানান্তরিত হয়।
👉 উদাহরণ: ধান, গম, মটর ইত্যাদি।

স্বপরাগায়নের উপকারিতা:

  • বংশগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে

  • পরাগায়নের জন্য বাহ্যিক সাহায্যের প্রয়োজন হয় না

অসুবিধা:

  • জিনগত বৈচিত্র্য কমে যায়

  • পরিবেশ পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন ক্ষমতা হ্রাস পায়


২. পরপরাগায়ন (Cross-pollination)

যখন এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলের স্ত্রিকেশরে স্থানান্তরিত হয়, এবং তারা ভিন্ন গাছে থাকে।
👉 উদাহরণ: নারিকেল, আম, লাউ, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

পরপরাগায়নের উপকারিতা:

  • নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়

  • গাছের জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়

  • উদ্ভিদ সাধারণত বেশি শক্তিশালী হয়

অসুবিধা:

  • পরাগবাহী প্রাণী বা মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল

  • বেশি শক্তি ব্যয় হয়


🌿 পরাগবাহক বা মাধ্যম (Agents of Pollination)

১. বায়ু দ্বারা (Anemophilous) → যেমন ভুট্টা, ধান
২. পোকা দ্বারা (Entomophilous) → যেমন গোলাপ, সূর্যমুখী
৩. পাখি দ্বারা (Ornithophilous) → যেমন হিবিসকাস, বকুল
৪. জল দ্বারা (Hydrophilous) → যেমন ভ্যালিসনারিয়া
৫. মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী দ্বারা → কৃত্রিম পরাগায়ন (Artificial pollination)

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট