Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

নারিকেল গাছে নারিকেল না ধরার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা


নারিকেল গাছ আমাদের দেশে একজন অর্থকরী ও বহুপকারী বৃক্ষ। পাতা, ফল, শাঁস, ডাব, কাণ্ড সবই বিভিন্ন কাজে লাগে।  কিন্তু অনেক সময়ে গাছে রয়েছে সুন্দর নতুন পাতাও, ফুলও কিছু এসেছে — কিন্তু নারিকেল ধরছে না। এ সমস্যা শুধু বাড়ীতে নয়, বাগান বা বাণিজ্যিক চাষেও দেখা যায়। এই ব্লগে আমরা মূল কারণগুলো ও সম্ভাব্য প্রতিকারগুলো আলোচনা করবো।



---


কারণগুলো


১. বয়স ও জাতের সমস্যা


গাছ যদি খুব কম বয়সে হয়— যেমন ৫-৬ বছর নয় বা যথেষ্ট সময় না পায়— তাহলে ফল ধরার সক্ষমতা কম থাকবে। 


অনেক সময় নির্বাচন করা জাত ফলন-সহনীয় নয় বা ঠিক জায়গার জন্য উপযোগী নয়। 



2. পরাগায়ন ও ফুলের প্রয়োজনীয়তা


ফুল ফোটার পর পরাগায়ন (pollination) ভালোভাবে হয়নি। অনেক সময় এক-দুটি গাছ রোপণ করা হয়, তবে পরাগায়নের জন্য সংখ্যাও কম হয় বা পরাগবাহী মৌমাছি বা বাতাসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। 


পরাগায়নের পরও অনেকে ফল নড়াচাড়া হয়, কারণ ফুল থেকে ফল গঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। 




3. পুষ্টি ও সারঘাটতি


মাটিতে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বোরন ইত্যাদির অভাব হলে গাছ ফল দিতে শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয়। 


বিশেষ করে পটাশিয়ামের অভাবে শাঁস (carnel) গঠন ব্যাহত হয় এবং ফল ঝড়ে পড়তে পারে। 




4. জল বাবস্থা ও মাটির অবস্থা


গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে বা একদম শুকনো হয়ে গেলে ফল গঠনের সময় ঝরার প্রবণতা বাড়ে। 


মাটিতে জৈবপদার্থ কম থাকলে, রাসায়নিক এবং জৈব সার ঠিকমতো না দিলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুটোরই সমস্যা হয়। 




5. আবহাওয়া ও পরিবেশগত চাপ


তাপমাত্রা খুব কম বা খুব বেশি হলে, বাতাসে আর্দ্রতা অত্যধিক বা কম হলে গাছ ফল ধরার আগে ঝরে যেতে পারে। 


পাশাপাশি শাড়ি (বহুদিন/হঠাৎ) ভারি বৃষ্টি, খড়ার সময় পানি কম বা বেশি হওয়া— সবই ঝরার কারণ হতে পারে। 






---


প্রতিকার ও ব্যবস্থাপনা


গাছ রোপণের সময় উপযুক্ত জাত নির্বাচন করুন, জায়গার মাটির ও জলবায়ুর সঙ্গে মিলিয়ে।


গাছের বয়স অনুযায়ী ফল ধরার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিন (ছোট গাছ হলে দ্রুত ফল ধরার আশা না রাখাই ভালো)।


ফুল ফোটার সময় পরাগায়নের জন্য একাধিক গাছ রোপণ করা ভালো— একগাছ নয় একসঙ্গে ১০-১৫ টাকা গাছ হলে পরাগবাহী মৌমাছি সহজে আসবে। 


মাটিতে নিয়মিত গোবর সার বা পচনসার দিন; নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম সার প্রয়োগ করুন। উদাহরণস্বরূপ: প্রতি বছর গোবর সার ২৫ কেজি, ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ২ কেজি ইত্যাদি (বয়স ১০ বছরের অধিক গাছের জন্য)। 


গাছের গোড়ায় সেচ দিন খরা ও অতিবর্ষার সময় ভালোভাবে — খরা হলে ১৫-২০ দিন পর পর সেচ দেয়া যায়। 


ফল ধরে না বা ঝরে পড়ছে ভাবলে প্রথমে মাটির রস, সার প্রয়োগ, পরাগায়ন ও পরিবেশগত অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নিন।


গাছের পাতাগুলো অত্যধিক কাটা না দেওয়া উচিত— কারণ সবুজ পাতা গাছের খাদ্যসংস্থান ও শক্তি সরবরাহ করে। 




---


উপসংহার


নারিকেল গাছে ফল ধরলে শুধু পরিবারের পানীয় বা ফল পাওয়া যায় না, বাণিজ্যিকভাবে অর্থও আসে। তাই গাছের বয়স, জাত, মাটি, সার, সেচ, পরাগায়ন ও পরিবেশ— সবদিকই বিবেচনায় রাখতে হবে। যদি গাছ ফল না ধরছে, তাহলে উপরের কারণগুলো যাচাই করে ধাপে ধাপে প্রতিকার নেয়া শ্রেয়। পাঠ্য বইয়ের “উদ্ভিদ ও পরিবেশ” বা “ফলদ বৃক্ষ ও খামারবৃক্ষ” অধ্যায়ে উল্লেখ থাকলে শিক্ষার্থীরাও সহজে বিষয়টি বুঝতে পারবে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট