Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

“শাপলা ফুল: গঠন, অভিযোজন ও পরিবেশগত গুরুত্ব”


৭.১ ভূমিকা


শাপলা (Nymphaea nouchali) বাংলাদেশের প্রচুর জলাশয়ে জন্মানো একটি বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং জলজ পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ অধ্যায়ে শাপলা ফুলের গঠন, বিস্তার, প্রজনন, পরিবেশগত অভিযোজন ও প্রতিবেশগত গুরুত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে আলোচনা করা হবে।



---


৭.২ শাপলা উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস


রাজ্য: Plantae


বিভাগ: Magnoliophyta


শ্রেণি: Magnoliopsida


বর্গ: Nymphaeales


পরিবার: Nymphaeaceae


গণ: Nymphaea


প্রজাতি: N. nouchali




---


৭.৩ শাপলা ফুলের গঠন (Morphology)


৭.৩.১ মূল (Root)


মাটির নিচে কাদাযুক্ত তলে মূল অবস্থান করে।


মূল আঁশযুক্ত এবং উদ্ভিদকে স্থির রাখে।



৭.৩.২ কাণ্ড (Stem / Rhizome)


শাপলার কাণ্ড সাধারণত রাইজোম–জাতীয়, মোটা ও নরম।


পানির তলদেশে অনুভূমিকভাবে ছড়িয়ে থেকে নতুন গাছ গজাতে সাহায্য করে।



৭.৩.৩ পাতা (Leaf)


গোলাকার, বিস্তৃত, জলে ভাসমান পত্রফলক।


পাতার নিচে বায়ুথলি (air chamber) থাকে যা ভাসতে সাহায্য করে।


পত্রবৃন্ত লম্বা ও নমনীয়—জলের গভীরতা অনুযায়ী বাড়ে।



৭.৩.৪ ফুল (Flower)


শাপলা ফুল সাধারণত সাদা, লাল বা গোলাপি।


বহু পাপড়ি ও বহু পুংকেশর (stamen) থাকে।


কেন্দ্রাংশে গর্ভকেশর (carpel) থাকে।


দিনের আলোতে ফুটে, সন্ধ্যায় কলা হয়ে যায়—এটি একটি nyctinastic movement (দিন-রাত অনুযায়ী ফুলের চলন)।




---


৭.৪ শাপলার শারীরবৃত্ত (Physiology)


শাপলা ফটোসিন্থেসিস করে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন উৎপন্ন করে।


পাতার উপরিভাগে অধিক সংখ্যক রন্ধ্র (stomata) থাকে।


অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুচক্রে অংশ নেয়।




---


৭.৫ শাপলার অভিযোজন (Adaptation)


৭.৫.১ ভৌত অভিযোজন


পাতায় বায়ুকুঠুরি—ভাসমান ক্ষমতা দেয়।


পাতার উপরিভাগ মোমজাতীয়—জল না লেগে থাকে।


লম্বা নমনীয় পত্রবৃন্ত—জলের ঢেউ সহনীয়।



৭.৫.২ পরিবেশগত অভিযোজন


কম আলোতেও ফটোসিন্থেসিস করতে সক্ষম।


কাদাযুক্ত তলে মূল সহজে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে।


জলের তাপমাত্রা পরিবর্তনে অভিযোজিত।




---


৭.৬ শাপলার প্রজনন (Reproduction)


৭.৬.১ যৌন প্রজনন


পুংকেশর থেকে পরাগরেণু স্ত্রীকেশরে পৌঁছে পরাগায়ন ঘটে।


পোকা, মৌমাছি, বাতাস দ্বারা পরাগায়ন।


নিষেকের পর বীজ উৎপন্ন হয়।



৭.৬.২ অযৌন প্রজনন


রাইজোমের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন গাছ জন্মায়।


এটি দ্রুত বিস্তার ঘটায়।




---


৭.৭ পরিবেশ ও প্রতিবেশে শাপলার ভূমিকা


৭.৭.১ পরিবেশগত গুরুত্ব


জলজ প্রাণীর আশ্রয়স্থল।


পানির অক্সিজেন মাত্রা বাড়ায়।


মাছের ডিম পাড়ার নিরাপদ স্থান।


জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য বজায় রাখে।



৭.৭.২ প্রতিবেশগত সম্পর্ক


শাপলা ও ব্যাঙ, ব্যাঙাচি, মাছ, পোকামাকড়ের মধ্যে খাদ্য ও আশ্রয় সম্পর্ক রয়েছে।


মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগবাহক প্রাণী শাপলা থেকে মধু সংগ্রহ করে।




---


৭.৮ মানুষের জীবনে শাপলার ব্যবহার


খাদ্য: শাপলার ডাটা ও কচি অংশ সবজি হিসেবে ব্যবহৃত।


ঔষধি: দেহ ঠান্ডা করা, রক্তচাপ কমানো—লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত।


সৌন্দর্যবর্ধন: পুকুর/বাগান সজ্জায়।




---


৭.৯ শাপলা সংরক্ষণ


জলাশয় দূষণ শাপলার জন্ম কমিয়ে দিচ্ছে।


প্লাস্টিক, শিল্প বর্জ্য, কীটনাশক হ্রদ–খালে শাপলা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।


শাপলা সংরক্ষণে


জলাশয় পরিষ্কার


মাছ ধরার নিয়ম


সচেতনতা

প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট