Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:০২ পূর্বাহ্ণ

ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেম ও ব্যান্ডউইথ

পাঠডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেম ও ব্যান্ডউইথ

এই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা

১. ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেম সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারবে

২. ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেমের উপাদান সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারবে

৩. ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিড বা ব্যান্ডউইথ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারবে

৪. ন্যারো ব্যান্ডভয়েস ব্যান্ড  ব্রডব্যান্ড সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারবে

 

ডেটা কমিউনিকেশন

ডেটা কমিউনিকেশন হলো দুটি ডিভাইসের মধ্যে কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে তথ্যের আদান-প্রদান করা। সহজ কথায়এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডেটা স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকেই ডেটা কমিউনিকেশন বলা হয়। Emails, SMS, Phone calls, Chatting ইত্যাদি হলো ডেটা কমিউনিকেশনের উদাহরণ।

 

ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেমের মৌলিক উপাদানসমূহ

ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেমে ৫ টি মৌলিক উপাদান বা অংশ রয়েছে। যথাঃ

v  উৎস (Source)

v  প্রেরক (Transmitter)

v  মাধ্যম (Medium)

v  প্রাপক (Receiver)

v  গন্তব্য (Destination)

 

১. উৎস(Source): যে ডিভাইস হতে ডেটা পাঠানো হয় তাকে উৎস বলে। যেমন: ক্যামেরামাইক্রোফোনকী-বোর্ড, টেলিফোন ও মোবাইল ফোন ইত্যাদি।

২. প্রেরক(Transmitter): ডেটাকে উৎস থেকে একটি মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রাপকের কাছে প্রেরণ করতে হয়। এক্ষেত্রে উৎস ও মাধ্যমের মাঝে একটি প্রেরক থাকতে হয়। যে যন্ত্র উৎসের ডেটাকে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রেরণের উপযোগী করে রুপান্তর করে এবং ডেটার নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনে একে এনকোড করে তাকে প্রেরক বলে। যেমন: মডেমরাউটারটিভি ষ্টেশনরেডিও ষ্টেশনটেলিফোন ও মোবাইল ফোন কম্পানির এক্সচেঞ্জার ইত্যাদি।

৩. মাধ্যম(Medium): মাধ্যম প্রেরক ও প্রাপক যন্ত্রকে যুক্ত করে। অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে ডেটা স্থানান্তর হয় তাকে মাধ্যম বা কমিউনিকেশন চ্যানেল বলে। মাধ্যম দুই ধরণের হতে পারে। যেমন: তার মাধ্যম (কোএক্সিয়াল ক্যাবলটুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলফাইবার অপটিক ক্যাবলটেলিফোন লাইন) এবং তারবিহীন মাধ্যম (রেডিও ওয়েবমাইক্রোওয়েবইনফ্রারেড)।

৪. প্রাপক(Receiver): কমিউনিকেশন সিস্টেমে যার কাছে ডেটা পাঠানো হয় তাকে প্রাপক বলে। প্রাপকের কাজ হচ্ছে মাধ্যম থেকে ডেটা সিগন্যাল গ্রহন করা এবং এ সিগন্যালকে গন্তব্য ডিভাইসের উপযোগী সিগন্যালে রূপান্তর করা। যেমন: মডেমরাউটারটিভি ষ্টেশনরেডিও ষ্টেশনটেলিফোন ও মোবাইল ফোন কম্পানির এক্সচেঞ্জার ইত্যাদি।

৫. গন্তব্য(Destination): যার উদ্দেশ্যে বা যে যন্ত্রে ডেটা পাঠানো হয় অর্থাৎ ট্রান্সমিশনের পর ডেটা সর্বশেষ যে যন্ত্রে পৌঁছে তাকে গন্তব্য বলে। যেমন- কম্পিউটারসার্ভারটেলিফোন ও মোবাইল ফোন ইত্যাদি।

 

ডেটা ট্রান্সমিশন স্পীড / ব্যান্ডউইডথ

ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিড (Data Transmission Speed) বলতে বোঝায় প্রতি একক সময়ে (যেমন প্রতি সেকেন্ডে) এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে বা নেটওয়ার্কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কতটুকু ডেটা স্থানান্তরিত হচ্ছে। সহজ কথায়ডেটা চলাচলের গতিকেই ব্যান্ডউইথ (Bandwidth) বা ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিড বলা হয়। এর মৌলিক একক হলো bps (bits per second)

ব্যান্ডউইথকে প্রধানত ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়:

v  ন্যারো ব্যান্ড

v  ভয়েস ব্যান্ড

v  ব্রড ব্যান্ড

১. ন্যারোব্যান্ড (Narrowband):- এটি সবচেয়ে ধীরগতির ডেটা ট্রান্সমিশন। এতে ডেটা স্থানান্তরের গতি সাধারণত ৪৫ (45) bps থেকে ৩০০ (300) bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। একসময় টেলিগ্রাফিতে (Telegraphy) এই ব্যান্ড ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এর ব্যবহার খুবই কম। এতে প্রচুর নয়েজ বা নয়েজ ডিস্টার্বেন্স থাকে

২. ভয়েসব্যান্ড (Voiceband):- এই ব্যান্ডের গতি ন্যারোব্যান্ডের চেয়ে বেশি কিন্তু ব্রডব্যান্ডের চেয়ে কম। এর গতি সাধারণত ৯৬০০ bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি সাধারণত টেলিফোন লাইনে ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার থেকে প্রিন্টারে ডেটা পাঠানোর সময় বা কার্ড রিডারে এই গতি ব্যবহৃত হয়। একে অনেক সময় ডায়াল-আপ (Dial-up) সংযোগও বলা হয়

৩. ব্রডব্যান্ড (Broadband):- উচ্চগতির ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ১ Mbps বা তার চেয়ে বেশি গতির সংযোগকে ব্রডব্যান্ড বলা হয়। বর্তমানে ফাইবার অপটিক বা ৫-জি প্রযুক্তিতে এর গতি অনেক গুণ বেশি (Gbps পর্যন্ত)। বর্তমানে আমরা বাসায় যে ওয়াই-ফাই বা ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট ব্যবহার করিস্যাটেলাইট কমিউনিকেশন এবং মাইক্রোওয়েভ কমিউনিকেশনে এটি ব্যবহৃত হয়

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট