Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ

ডেটা ট্রান্সমিশন মোড

পাঠডেটা ট্রান্সমিশন মোড

এই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা

১. ডেটা ট্রান্সমিশন মোড সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারবে

২. ডেটা ট্রান্সমিশন মোডের প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে পারবে

৩. সিমপ্লেক্সহাফ-ডুপ্লেক্স  ফুল-ডুপ্লেক্স মোড ব্যাখ্যা করতে পারবে

৪. ইউনিকাষ্ট, ব্রডকাষ্ট  মাল্টিকাস্ট মোড ব্যাখ্যা করতে পারবে

 

ডেটা ট্রান্সমিশন মোড

ডেটা কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে ডেটার দিক কী হবে অর্থাৎ ডেটা কোন দিক থেকে কোন দিকে যাবে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডেটা কমিউনিকেশনের সময় ডেটা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ডেটা প্রবাহের দিককে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড বলা হয়। ডেটা আদান-প্রদানের উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন মোডকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

­  সিমপ্লেক্স (Simplex)

­  হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex)

­  ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex)

  

১. সিমপ্লেক্স (Simplex)

একমুখী ডেটা প্রবাহকে বলা হয় সিমপ্লেক্স মোড। এই ব্যবস্থায় যে প্রান্ত ডেটা প্রেরণ করবে সে প্রান্ত ডেটা গ্রহণ করতে পারবে না এবং গ্রহণ প্রান্ত ডেটা প্রেরণ করতে পারবে না। যেমন- রেডিওটিভির সাধারণ অনুষ্ঠানমালাকীবোর্ডমাউসপেজার ইত্যাদি।

সিমপ্লেক্স মোডের সুবিধা

¨      এটি সবচেয়ে সরল ডেটা ট্রান্সমিশন মোডতাই বাস্তবায়ন করা সহজ।

¨      যেহেতু জটিল সার্কিটের প্রয়োজন হয় নাতাই এটি তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল।

¨      ডেটা একমুখী হওয়ায় পুরো চ্যানেলের ব্যান্ডউইথ একদিকে থাকেযা দ্রুত ডেটা প্রেরণে সাহায্য করে।

সিমপ্লেক্স মোডের সুবিধা

¨      দ্বিমুখী যোগাযোগের সুযোগ নেই।

¨      প্রেরক জানতে পারে না যে গ্রাহক সঠিকভাবে ডেটা পেয়েছে কিনা বা কোনো ত্রুটি হয়েছে কিনা।

¨      ইন্টারেক্টিভ যোগাযোগের জন্য এটি উপযুক্ত নয়যেখানে উভয় পক্ষেরই ডেটা আদান-প্রদান করার প্রয়োজন হয়।

২. হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex)

এই পদ্ধতিতে প্রেরক ও প্রাপক উভয়ই ডেটা স্থানান্তর করতে পারেতবে তা একই সময়ে যুগপৎ সম্ভব নয়। যেকোনো প্রান্ত একই সময়ে কেবলমাত্র ডেটা গ্রহণ অথবা প্রেরণ করতে পারেকিন্তু গ্রহণ ও প্রেরণ একই সাথে করতে পারে না। নিচের চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে, ‘A' যখন ডেটা প্রেরণ করবে ‘B' তখন শুধমাত্র গ্রহণ করতে পারবেকিন্তু প্রেরণ করতে পারবে না। ‘A' এর প্রেরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ‘B' ডেটা প্রেরণ করতে পারবেতখন ‘A' শুধুমাত্র গ্রহণ করতে পারবে কিন্তু প্রেরণ করতে পারবে না। যেমন- ওয়াকি- টকিফ্যাক্সএস.এম.এস ইত্যাদি।

হাফ-ডুপ্লেক্স মোডের সুবিধা

¨      সিমপ্লেক্স মোডের তুলনায় এটি দ্বি-মুখী যোগাযোগ সমর্থন করেযা ইস্টারেক্টিভ যোগাযোগের জন্য উপযোগী।

¨      যখন শুধুমাত্র ডেটা একদিকে স্থানান্তরিত হয়তখন প্রতিটি ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় চ্যানেলের পুরো ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা যায়।

¨      ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের তুলনায় এটি কম জটিল এবং কম ব্যয়বহুল হতে পারেকারণ হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে ডেডিকেটেড কমিউনিকেশন চ্যানেলের প্রয়োজন হয় না।

হাফ-ডুপ্লেক্স মোডের সুবিধা

¨      একই সময়ে উভয় দিকে ডেটা পাঠানো যায় নাতাই ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের তুলনায় এটি ধীর গতির হয়।

¨      ডেটা প্রবাহের দিক পরিবর্তনের জন্য একটি বিরতির প্রয়োজন হয়যা সামগ্রিক কর্মক্ষমতা হ্রাস করতে পারে।

¨      কিছু হাফ-ডুপ্লেক্স সিস্টেমেযদি উভয় ডিভাইস একই সাথে ডেটা পাঠানোর চেষ্টা করেতাহলে ডেটা সংঘর্ষ হতে পারেফলে ডেটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

 

৩. ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex)

ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে একই সময়ে উভয় দিক হতে ডেটা আদান-প্রদান ব্যবস্থা থাকে। যেকোনো প্রান্ত প্রয়োজনে ডেটা প্রেরণ করার সময় ডেটা গ্রহণ অথবা ডেটা গ্রহণের সময় ডেটা প্রেরণও করতে পারে। উদাহরণ- টেলিফোনমোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কমিউনিকেশন।

ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের সুবিধা

¨      একই সময়ে উভয় দিকে যুগপৎ ডেটা স্থানান্তরের কারণে এটি দ্রুততম মোড।

¨      যেহেতু ভেটা প্রবাহের জন্য দুটি পৃথক চ্যানেল বা পথ থাকেতাই ডেটা প্রেরণের সময় সংঘর্ষের (collision) কোনো ঝুঁকি থাকে না।

¨      ডেটা প্রবাহের জন্য কোনো অপেক্ষার প্রয়োজন হয় নাতাই চ্যানেলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের সুবিধা

¨      সিমপ্লেক্স এবং হাফ-ডুপ্লেক্সের তুলনায় এটি বাস্তবায়ন করা অনেক জটিলকারণ দুটি ডেডিকেটেড কমিউনিকেশন পাথ বা উন্নত মাল্টিপ্লেক্সিং কৌশলের প্রয়োজন হয়।

¨      জটিলতার কারণে হার্ডওয়‍্যার এবং অবকাঠামো সেটআপ করা তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট