প্রভাষক
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
পাঠ: ক্রায়োসার্জারি
এই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা
১. ক্রায়োসার্জারি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারবে।
২. ক্রায়োসার্জারির ব্যবহার, সুবিধা-অসুবিধা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
ক্রায়োসার্জারি
গ্রিক শব্দ ক্রাউস(kruos) থেকে ক্রায়ো (Cryo) শব্দটি এসেছে যার অর্থ বরফের মতো ঠাণ্ডা এবং ‘সার্জারি’ অর্থ শৈল্য চিকিৎসা। ক্রায়োসার্জারি হলো এক ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি যাতে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে শরীরের অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয়। এক্ষেত্রে শীতলীকরনের জন্য তরল নাইট্রোজেন, হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড, হিলিয়াম, আর্গন, ডাই-মিথাইল-ইথার ও প্রোপেন ব্যবহার করা হয়। এটি একটি অপারেশন বিহীন চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে ক্যান্সার, টিউমার, তিল,আচিল সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়।
ক্রায়োসার্জারি যেভাবে কাজ করে
শরীরের অভ্যন্তরস্ত টিউমার বা রোগাক্রান্ত কোষের জন্য কাটাছেঁড়া ছাড়াই ইমেজিং যন্ত্রের(MRI,আলট্রা সাউন্ড) সহায়তায় ক্রায়ো সূচ অথবা ক্রায়োপ্রোবের মাধ্যমে ক্রায়োজনিক এজেন্ট রোগাক্রান্ত কোষে প্রয়োগ করা হয় । ফলে ১০-১২ সেকেন্ডের মধ্যে কোষের তাপমাত্রা -৪১ থেকে -১৯৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নেমে আসে। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের কারণে কোষের পানি জমাটবদ্ধ হয়ে ঐ টিস্যুটি বরফপিণ্ডে পরিণত হয়। বরফপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধের কারণে টিস্যুটি মারা যায় । পূনরায় কোষের ভিতরে হিলিয়াম গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে তাপমাত্রা ২০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে উঠানো হয়। ফলে জমাটবদ্ধ টিস্যুটির বরফ গলে যায় এবং মৃত কোষগুলো স্বাভাবিক শরীরগত প্রক্রিয়ায় তা ধীরে ধীরে অপসারিত হয়ে যায় ।
ক্রায়ো-সার্জারী পদ্ধতির সুবিধাসমুহ
¨ ক্রায়োসার্জারীর সুবিধা হলো এটি বারবার করা সম্ভব।
¨ এটি সার্জারীর চেয়ে কম বেদনাদায়ক, সেই সাথে ব্যথা, রক্তক্ষরন এবং অস্ত্রোপাচারের জটিলতা কমিয়ে আনে।
¨ ক্রায়োসার্জারী চিকিৎসা পদ্ধতির কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
¨ অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় খরচ কম।
ক্রায়ো-সার্জারী পদ্ধতির অসুবিধাসমুহ
¨ দীর্ঘকালীন কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা।
¨ রোগ ছড়িয়ে পড়েনি এমন ক্যান্সার চিকিৎসায় কার্যকর, অন্যথায় তেমন কার্যকর নয়।
ক্রায়ো-সার্জারী পদ্ধতির সাইড ইফেক্টসমুহ
¨ অল্প রক্তক্ষরন হতে পারে।
¨ লিভার বা ফুসফুসের নরমাল স্ট্রাকচার নষ্ট হতে পারে।
¨ ফোস্কা পড়তে পারে।
¨ হালকা ব্যাথা হতে পারে।
¨ ইনফেকশন হতে পারে।
¨ ফুসফুস সার্জারীর সময় ফুসফুস বিনষ্ট হতে পারে।