প্রভাষক
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
পাঠ: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
এই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা
১. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারবে।
২. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারবে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
কোন জীব থেকে নির্দিষ্ট জিন বহনকারী DNA খন্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল কে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়। এই প্রযুক্তিতে এক জীবের ডি এন এ বা জিন অন্য জীবের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কে জেনেটিক মডিফিকেশন (Genetic modification বা manipulation বলা হয়। গবেষণার মাধ্যমে যখন DNA এর একটি জিন পরিবর্তন করে সেখানে অন্য জিন লাগানো হয়, তখন তাকে বলা হয় Recombinant DNA। RDNA সমৃদ্ধ জীবকোষকে বলা হয় Genetically Modified Organism (GMO)। সাধারণত জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত ট্রান্সজেনিক উদ্ভিত ও প্রানী সৃষ্টিতে কাজ করে থাকে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর জনক
১৯৭২ সালে Paul Berg বানরের ভাইরাস SV40 ও lambda virus এর DNA এর সংযোগ ঘটিয়ে বিশ্বের প্রথম রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ অণু তৈরি করেন। এই জন্য Paul Berg কে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর জনক বলা হয়।
রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির ধাপসমূহ
v DNA নির্বাচন
v DNA এর বাহক নির্বাচন
v DNA খণ্ড কর্তন
v খণ্ডনকৃত DNA প্রতিস্থাপন
v পোষকদেহে রিকম্বিনেন্ট DNA স্থানান্তর
v রিকম্বিনেন্ট DNA এর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মূল্যায়ন
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সুবিধা
¨ হাইব্রিড জাতের শস্য, প্রানী (প্রাণীর আকার, মাংস বৃদ্ধি, দুধে আমিষের পরিমাণ বাড়িয়ে) ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য ঘাটতি সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে।
¨ উচ্চফলনশীল বা হাইব্রিড জাতের শস্য, প্রানী ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদাশিক মুদ্রা ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর অসুবিধা
¨ জীববৈচিত্র্য অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে জীবজগতে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি
¨ অনৈতিক বা অযাচিতভাবে জিনের স্থানান্তর
¨ এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস ও এলার্জির উদ্ভব
¨ জীববিধ্বংসী প্রজাতি বা ভাইরাস উদ্ভবের আশঙ্কা
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহার
¨ উচ্চফলনশীল ফসল (ভুট্টা, ধান, তুলা, টমেটো, পেঁপে ) উৎপাদনে
¨ উন্নত জাতের শস্যবীজ উৎপাদনে
¨ হাইব্রিড প্রাণী ও মৎস্য (মাগুর, কার্প, তেলাপিয়া) উৎপাদনে
¨ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পোকামাকড় প্রতিরোধী করতে
¨ ইনসুলিন তৈরিতে
¨ ভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসায়
¨ বামনত্ব রোগের চিকিৎসায়
¨ ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায়
¨ এইডস রোগের চিকিৎসায়