পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ৩৯ #
প্রসেসরের কুলিং ফ্যান হলো সিপিইউ (CPU) থেকে উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপ সরিয়ে কম্পিউটারকে ঠান্ডা রাখার একটি অপরিহার্য যন্ত্র, যা সাধারণত একটি
হিটসিঙ্ক ও ফ্যানের সমন্বয়ে গঠিত এবং এটি দুটি প্রধান ধরনের হয়:
এয়ার কুলার (সাধারণত ফ্যান ও হিটপাইপ) এবং
লিকুইড কুলার (AIO বা কাস্টম লুপ), যা প্রসেসরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে ও দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে, এবং বাজারে বিভিন্ন দাম ও ডিজাইনের ফ্যান পাওয়া যায়।
কুলিং ফ্যান কেন প্রয়োজন?
- অতিরিক্ত তাপ অপসারণ: সিপিইউ কাজ করার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে, যা ফ্যান টেনে বের করে দেয়।
- সিস্টেমের স্থিতিশীলতা: অতিরিক্ত তাপ প্রসেসরের ক্ষতি করতে পারে এবং সিস্টেমকে ধীর করে দিতে পারে।
- দীর্ঘায়ু: ঠান্ডা রাখলে প্রসেসরের আয়ু বাড়ে।
কুলিং ফ্যানের প্রকারভেদ:
- এয়ার কুলার (Air Cooler):
- গঠন: হিটসিঙ্ক (ধাতব পাখা), হিটপাইপ এবং একটি ফ্যান থাকে।
- কাজ: হিটসিঙ্ক তাপ শোষণ করে এবং ফ্যান সেই তাপকে বাতাসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়।
- প্রকার: স্টক কুলার (প্রসেসরের সাথে আসে), আফটারমার্কেট কুলার (বড় হিটসিঙ্ক ও ফ্যান)।
- লিকুইড কুলার (Liquid Cooler / AIO):
- গঠন: ওয়াটার ব্লক, পাম্প, রেডিয়েটর ও ফ্যান।
- কাজ: ওয়াটার ব্লক প্রসেসরের তাপ শোষণ করে এবং কুল্যান্টের মাধ্যমে রেডিয়েটরে পাঠায়, যা ফ্যানের সাহায্যে ঠান্ডা হয়।
- সুবিধা: সাধারণত এয়ার কুলারের চেয়ে ভালো কুলিং পারফরম্যান্স দেয়, বিশেষ করে ওভারক্লকিংয়ের জন্য।
কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও মডেল (উদাহরণ):
- এয়ার কুলার: Cooler Master Hyper 212, Deepcool AK500/AK620, Thermalright Peerless Assassin, Noctua NH-D15।
- লিকুইড কুলার: Corsair iCUE H150i, NZXT Kraken, Deepcool LS/LT সিরিজ, Asus ROG Ryuo।
কেনার আগে যা দেখবেন:
- কম্প্যাটিবিলিটি: আপনার মাদারবোর্ডের সকেটের (যেমন: LGA 1700, AM5) সাথে কুলারটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।
- কেসের স্পেস: আপনার কম্পিউটার কেসে কুলারটি (উচ্চতা বা রেডিয়েটরের আকার) ফিট হবে কিনা।
- নয়েজ লেভেল (dBA): ফ্যানের শব্দ কতটুকু হবে, যা পারফরম্যান্সের সাথে সম্পর্কিত।