পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ২৪ #
মেশ টপোলজি (Mesh Topology) হলো এমন একটি নেটওয়ার্ক গঠন যেখানে প্রতিটি ডিভাইস বা কম্পিউটার সরাসরি অন্যান্য একাধিক ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত থাকে, যা ডেটা আদান-প্রদানের জন্য একাধিক পথ তৈরি করে এবং নেটওয়ার্ককে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও ত্রুটি-সহনশীল করে তোলে। এর প্রধান দুটি ধরন হলো 'পূর্ণ মেশ' (Full Mesh), যেখানে প্রতিটি ডিভাইস অন্য সব ডিভাইসের সাথে যুক্ত থাকে, এবং 'আংশিক মেশ' (Partial Mesh), যেখানে শুধুমাত্র কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও, এর সেটআপ ও রক্ষণাবেক্ষণ জটিল এবং ব্যয়বহুল।
মূল বৈশিষ্ট্য
- একাধিক পথ: ডেটা প্রেরণের জন্য একাধিক বিকল্প পথ থাকে, ফলে একটি পথ বিকল হলে অন্য পথ ব্যবহার করা যায়।
- উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা (Fault Tolerance): একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও নেটওয়ার্ক সচল থাকে, কারণ ডেটা অন্য পথ দিয়ে যেতে পারে।
বন্টনকৃত (Decentralized): কোনো কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচ ছাড়াই ডিভাইসগুলো সরাসরি সংযুক্ত থাকে।প্রতিটি নোড ডেটা রিলে করে: প্রতিটি ডিভাইস শুধু নিজের ডেটা নয়, অন্যান্য ডিভাইসের ডেটাও রিলে (relay) করতে পারে। প্রকারভেদ
- পূর্ণ মেশ (Full Mesh): প্রতিটি নোড নেটওয়ার্কের অন্য সব নোডের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। এটি সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য কিন্তু সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
- আংশিক মেশ (Partial Mesh): কিছু নোড অন্যান্য নোডের সাথে একাধিক সংযোগে যুক্ত থাকে, কিন্তু সব নোড নয়। এটি বাস্তব জগতে বেশি ব্যবহৃত হয়।
সুবিধা
- উচ্চ নিশ্চয়তা: ডেটা কমিউনিকেশনে অনেক বেশি নিশ্চয়তা থাকে, কারণ একাধিক পথ বিদ্যমান।
- সহজ সমস্যা সমাধান: নেটওয়ার্কের ত্রুটি খুব সহজে চিহ্নিত ও সমাধান করা যায়।
- উচ্চ ট্র্যাফিক সহ্য ক্ষমতা: একই সাথে একাধিক ডিভাইস ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে।
অসুবিধা
- উচ্চ খরচ: অতিরিক্ত সংযোগের কারণে কেবল এবং কনফিগারেশনের খরচ অনেক বেশি।
- জটিল সেটআপ ও রক্ষণাবেক্ষণ: ইনস্টলেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণ বেশ কঠিন ও জটিল।
- অতিরিক্ত সংযোগ: অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় লিংক তৈরি হয়, যা ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে তোলে।
ব্যবহার
- ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক (Wireless Networks) এবং ওয়াই-ফাই সিস্টেমে।
- স্মার্ট হোম সিস্টেম ও IoT (Internet of Things) ডিভাইসগুলোতে।
- গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তা-সচেতন নেটওয়ার্কগুলোতে যেখানে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ অপরিহার্য।