প্রভাষক
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০৭ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
স্টার টপোলজি (Star Topology) বর্তমানে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় টপোলজি। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের (সুইচ বা হাব) সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। নিচে স্টার টপোলজির বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
স্টার টপোলজি কীভাবে কাজ করে?
এই টপোলজিতে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী ডিভাইস থাকে যাকে সুইচ (Switch) বা হাব (Hub) বলা হয়। নেটওয়ার্কের প্রতিটি কম্পিউটার বা ডিভাইস আলাদা আলাদা ক্যাবল বা তারের মাধ্যমে সরাসরি এই কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সাথে যুক্ত থাকে। যখন একটি কম্পিউটার অন্য একটি কম্পিউটারে ডেটা পাঠাতে চায়, তখন সেই ডেটা প্রথমে কেন্দ্রীয় ডিভাইসে যায় এবং কেন্দ্রীয় ডিভাইসটি সেই ডেটাকে সঠিক গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়।
স্টার টপোলজির সুবিধাসমূহ
¨ সহজ মেরামত: কোনো একটি কম্পিউটার বা তার নষ্ট হয়ে গেলে কেবল সেই কম্পিউটারটিই নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, বাকি পুরো নেটওয়ার্ক সচল থাকে।
¨ সহজে নতুন ডিভাইস যুক্ত করা: নেটওয়ার্কের কাজ বন্ধ না করেই খুব সহজে নতুন কম্পিউটার বা প্রিন্টার যুক্ত করা যায়।
¨ ত্রুটি নির্ণয় সহজ: কোনো সমস্যা দেখা দিলে খুব দ্রুত বোঝা যায় কোন কম্পিউটারে বা কোন ক্যাবলে সমস্যা হয়েছে।
¨ উচ্চ গতি: সরাসরি সংযোগ থাকার কারণে ডেটা আদান-প্রদান বেশ দ্রুত হয়।
স্টার টপোলজির অসুবিধাসমূহ
¨ কেন্দ্রীয় ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীলতা: যদি কেন্দ্রীয় ডিভাইসটি (Switch বা Hub) নষ্ট হয়ে যায়, তবে পুরো নেটওয়ার্কটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এটিই এই টপোলজির প্রধান দুর্বলতা।
¨ খরচ কিছুটা বেশি: যেহেতু প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য আলাদা তার প্রয়োজন হয়, তাই বাস বা রিং টপোলজির তুলনায় এতে তারের খরচ কিছুটা বেশি।
¨ সীমিত পোর্ট: কেন্দ্রীয় সুইচে যতগুলো পোর্ট বা সংযোগস্থল থাকে, তার চেয়ে বেশি কম্পিউটার যুক্ত করা যায় না (তবে প্রয়োজনে আরও সুইচ যুক্ত করা সম্ভব)।
বাস্তব জীবনে ব্যবহার
বর্তমানে আমাদের বাসা-বাড়ি, অফিস, ব্যাংক বা স্কুল-কলেজের কম্পিউটার ল্যাবে যে নেটওয়ার্ক দেখা যায়, তার প্রায় ৯৯% হলো স্টার টপোলজি। এমনকি আমরা যখন একটি ওয়াইফাই রাউটারের সাথে অনেকগুলো মোবাইল বা ল্যাপটপ যুক্ত করি, তখন সেটিও একটি ওয়্যারলেস স্টার টপোলজি হিসেবে কাজ করে।