প্রভাষক
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:২৬ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
মোবাইল ফোনের বিবর্তন প্রযুক্তির ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়। আশির দশকের সেই বিশাল আকারের হ্যান্ডসেট থেকে আজকের অতি-আধুনিক স্মার্টফোন—এই পথচলাকে পাঁচটি প্রধান প্রজন্মে (Generation) ভাগ করা হয়। নিচে বিভিন্ন প্রজন্মের মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. প্রথম প্রজন্ম (1G): অ্যানালগ যুগ (১৯৮০-১৯৯০)
এটি ছিল মোবাইল ফোনের শুরুর দিক। এই প্রজন্মে অ্যানালগ সিগন্যাল ব্যবহার করা হতো।
¨ বৈশিষ্ট্য: শুধুমাত্র ভয়েস কল করা যেত।
¨ সীমাবদ্ধতা: ফোনের আকার ছিল অনেক বড়, ভয়েস কোয়ালিটি ছিল খারাপ এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ খুব কম ছিল।
¨ উদাহরণ: মটোরোলা ডায়নাট্যাক (Motorola DynaTAC)।
২. দ্বিতীয় প্রজন্ম (2G): ডিজিটাল বিপ্লব (১৯৯০-২০০০)
২জি প্রযুক্তিতে প্রথম ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবহার শুরু হয়। এখান থেকেই মোবাইল ফোন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসতে শুরু করে।
¨ বৈশিষ্ট্য: ভয়েস কলের পাশাপাশি SMS (মেসেজ) এবং MMS পাঠানোর সুবিধা যুক্ত হয়। GSM এবং CDMA প্রযুক্তির সূচনা হয়।
¨ ইন্টারনেট: খুব ধীরগতির ইন্টারনেট (GPRS/EDGE) চালু হয়।
¨ উদাহরণ: নোকিয়া ১১০০, ৩৩১০।
৩. তৃতীয় প্রজন্ম (3G): ইন্টারনেটের প্রসার (২০০০-২০১০)
৩জি আসার ফলে মোবাইল ফোন কেবল কথা বলার যন্ত্র থেকে একটি মাল্টিমিডিয়া ডিভাইসে রূপান্তরিত হয়।
¨ বৈশিষ্ট্য: উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা। প্রথমবার ভিডিও কলিং এবং মোবাইল টিভি দেখার সুযোগ তৈরি হয়।
¨ প্রযুক্তি: এতে UMTS এবং HSPA প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
¨ প্রভাব: স্মার্টফোনের জয়জয়কার শুরু হয় এবং অ্যাপ ব্যবহারের প্রচলন বাড়ে।
৪. চতুর্থ প্রজন্ম (4G): হাই-স্পিড ডেটা (২০১০-২০২০)
৪জি বা LTE প্রযুক্তি মোবাইল ইন্টারনেটের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। বর্তমানে আমরা মূলত এই প্রজন্মেই অবস্থান করছি।
¨ বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত উচ্চগতির ইন্টারনেট। বাফারিং ছাড়াই হাই-ডেফিনিশন (HD) ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং এবং দ্রুত ফাইল ডাউনলোড সম্ভব হয়।
¨ প্রযুক্তি: IP-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক এবং উন্নত ব্রডব্যান্ড অভিজ্ঞতা।
¨ উদাহরণ: বর্তমানের প্রায় সব আধুনিক স্মার্টফোন।
৫. পঞ্চম প্রজন্ম (5G): ভবিষ্যতের প্রযুক্তি (২০২০-বর্তমান)
৫জি হলো বর্তমানের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, যা বিশ্বের অনেক দেশে চালু হয়েছে এবং বাংলাদেশেও পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে।
¨ বৈশিষ্ট্য: ৪জি-র চেয়ে ১০০ গুণ বেশি গতি। এতে ল্যাটেন্সি (Latency) বা রেসপন্স টাইম প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।
¨ ব্যবহার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), চালকবিহীন গাড়ি (Self-driving cars), স্মার্ট সিটি এবং ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) এর জন্য এটি অপরিহার্য।