প্রভাষক
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
ওয়াইফাই (Wi-Fi) বা Wireless Fidelity হলো এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে কোনো প্রকার তারের সংযোগ ছাড়াই রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট বা লোকাল নেটওয়ার্ক সুবিধা পাওয়া যায়। বর্তমানে বাসা-বাড়ি, অফিস বা পাবলিক প্লেসে ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম এটি। নিচে ওয়াইফাই প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি, সুবিধা ও সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ওয়াইফাই মূলত রেডিও ওয়েভ বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করে। এর মূল কাঠামোতে থাকে:
¨ রাউটার (Router): এটি মূল ইন্টারনেট সংযোগকে (তারের মাধ্যমে আসা) রেডিও সিগন্যালে রূপান্তর করে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়।
¨ অ্যাডাপ্টার (Adapter): স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে থাকা ওয়াইফাই অ্যাডাপ্টার সেই রেডিও সিগন্যাল গ্রহণ করে পুনরায় ডিজিটাল তথ্যে রূপান্তর করে।
¨ ফ্রিকোয়েন্সি: ওয়াইফাই সাধারণত 2.4 GHz এবং 5 GHz—এই দুটি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে কাজ করে।
ওয়াইফাই প্রযুক্তির সুবিধাসমূহ
¨ তারহীন সংযোগ: ক্যাবল বা তারের ঝামেলা নেই বলে যেকোনো স্থানে বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।
¨ একই সাথে একাধিক ডিভাইস: একটি মাত্র রাউটার ব্যবহার করে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি এবং আইওটি (IoT) ডিভাইস একসাথে চালানো যায়।
¨ পোর্টেবিলিটি: নেটওয়ার্ক রেঞ্জের মধ্যে থেকে ব্যবহারকারী যেকোনো দিকে নড়াচড়া করতে পারেন।
¨ সাশ্রয়ী: মোবাইল ডেটার তুলনায় ওয়াইফাই সাধারণত অনেক সস্তা এবং আনলিমিটেড ব্যবহারের সুবিধা দেয়।
ওয়াইফাই এবং হটস্পট-এর মধ্যে পার্থক্য
অনেকে ওয়াইফাই এবং হটস্পটকে একই মনে করেন, তবে এদের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে:
¨ ওয়াইফাই: এটি একটি প্রযুক্তি বা মাধ্যম যা তারহীন সংযোগ প্রদান করে।
¨ হটস্পট: এটি একটি নির্দিষ্ট এলাকা (যেমন: ক্যাফে বা এয়ারপোর্ট) যেখানে ওয়াইফাই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হয়। আপনার ফোন থেকেও 'মোবাইল হটস্পট' চালু করে অন্যকে ইন্টারনেট দেওয়া সম্ভব।
ওয়াইফাই নিরাপত্তা (Security)
আপনার ওয়াইফাই সংযোগটি যদি পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত না থাকে, তবে হ্যাকাররা আপনার তথ্য চুরি করতে পারে। নিরাপত্তার জন্য নিচের প্রোটোকলগুলো ব্যবহৃত হয়:
¨ WEP: এটি পুরনো এবং দুর্বল সিকিউরিটি।
¨ WPA2/WPA3: বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী সিকিউরিটি প্রোটোকল। ওয়াইফাই সেটআপের সময় সবসময় WPA3 বা অন্তত WPA2 নির্বাচন করা উচিত।
কিছু সাধারণ সীমাবদ্ধতা
¨ রেঞ্জ বা সীমা: রাউটার থেকে দূরত্ব বেড়ে গেলে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ে।
¨ বাধা: দেয়াল, কাঁচ বা বড় আসবাবপত্র ওয়াইফাই সিগন্যালের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
¨ ইন্টারফারেন্স: মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা ব্লুটুথ ডিভাইসের কারণে সিগন্যালে বিঘ্ন ঘটতে পারে।