প্রভাষক
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:২২ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
কো-এক্সিয়াল ক্যাবল
কো-এক্সিয়াল ক্যাবলের কেন্দ্রে একটি পরিবাহী তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের তার থাকে। এই তারটিকে ঘিরে ইনসুলেশন বা কুপরিবাহী পদার্থ থাকে, যা আবার জালের মতো পেঁচানো একটি পরিবাহী স্তর দিয়ে ঢাকা থাকে। সবশেষে প্লাস্টিকের একটি মজবুত জ্যাকেট পুরো ক্যাবলটিকে রক্ষা করে। এই গঠনের কারণে বাইরের বৈদ্যুতিক গোলযোগ (Interference) ডেটা সিগন্যালে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না।
কো-এক্সিয়াল ক্যাবলের প্রকারভেদ
ব্যবহার ও গঠনের ওপর ভিত্তি করে এটি প্রধানত দুই প্রকার:
১.থিননেট (Thinnet):এটি নমনীয় এবং পাতলা ক্যাবল। এর ব্যাস প্রায় ০.২৫ ইঞ্চি। এটি সাধারণত লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) এ ব্যবহৃত হয় এবং ১৮৫ মিটার পর্যন্ত দূরত্বে ডেটা পাঠাতে পারে।
২.থিকনেট (Thicknet):এটি তুলনামূলকভাবে মোটা এবং শক্ত। এর ব্যাস প্রায় ০.৫ ইঞ্চি। এটি ৫০০ মিটার পর্যন্ত দূরত্বে ডেটা পাঠাতে সক্ষম এবং সাধারণত ব্যাকবোন ক্যাবল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা:
¨ কম ইন্টারফারেন্স:এর বিশেষ শিল্ডিং স্তরের কারণে বাইরের সিগন্যাল বা গোলযোগ ডেটাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না।
¨ উচ্চ ব্যান্ডউইথ:এটি টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের তুলনায় বেশি ব্যান্ডউইথ প্রদান করে।
¨ খরচ:এটি ফাইবার অপটিক ক্যাবলের চেয়ে সস্তা।
¨ সহজ ইনস্টলেশন:এটি স্থাপন করা তুলনামূলক সহজ এবং টেকসই।
অসুবিধা:
¨ দূরত্ব সীমাবদ্ধতা:ফাইবার অপটিকের মতো এটি খুব বেশি দূরত্বে সিগন্যাল পাঠাতে পারে না।
¨ মোটা ও কম নমনীয়:ফাইবার অপটিকের তুলনায় এটি বেশ ভারী এবং সহজে বাঁকানো যায় না।
¨ একটি নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল:অনেক ক্ষেত্রে মেইন ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কো-এক্সিয়াল ক্যাবলের ব্যবহার
বর্তমান সময়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের জনপ্রিয়তা বাড়লেও সাশ্রয়ী মূল্য এবং টেকসই হওয়ার কারণে টেলিভিশন এবং সিসিটিভি নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে কো-এক্সিয়াল ক্যাবল এখনো তার গুরুত্ব ধরে রেখেছে।