প্রভাষক
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা Local Area Network (LAN) হলো এমন একটি নেটওয়ার্ক যা খুব ছোট একটি ভৌগোলিক এলাকা, যেমন—একটি ঘর, অফিস, স্কুল বা একটি ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে একটি। নিচে LAN সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
LAN কী?
LAN মূলত একাধিক কম্পিউটার এবং পেরিফেরাল ডিভাইস (যেমন: প্রিন্টার) একসাথে যুক্ত করে তথ্য বা রিসোর্স শেয়ার করার জন্য তৈরি করা হয়। এর বিস্তৃতি সাধারণত কয়েক মিটার থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
LAN-এর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
¨ ভৌগোলিক এলাকা: এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট ভবন বা ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
¨ গতি: LAN-এ ডেটা ট্রান্সফার স্পিড অনেক বেশি থাকে (সাধারণত 100 Mbps থেকে 1 Gbps বা তার বেশি)।
¨ মালিকানা: এটি সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
¨ মাধ্যমিক প্রযুক্তি: এটি তৈরি করতে সাধারণত Ethernet ক্যাবল, Hub, Switch বা Wi-Fi ব্যবহার করা হয়।
LAN-এর প্রকারভেদ
LAN প্রধানত দুইভাবে কাজ করে:
¨ Client-Server LAN: এখানে একটি কেন্দ্রীয় শক্তিশালী কম্পিউটার (সার্ভার) থাকে যা অন্য কম্পিউটারগুলোকে (ক্লায়েন্ট) সেবা প্রদান করে।
¨ Peer-to-Peer LAN: এখানে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকে না; প্রতিটি কম্পিউটার সমান ক্ষমতা সম্পন্ন এবং সরাসরি একে অপরের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা
¨ হার্ডওয়্যার (যেমন: প্রিন্টার) শেয়ার করা যায়।
¨ সফটওয়্যার বা লাইসেন্স শেয়ার করা সাশ্রয়ী।
¨ ডেটা আদান-প্রদান অত্যন্ত দ্রুত এবং নিরাপদ।
অসুবিধা
¨ এটি কেবল ছোট এলাকায় সীমাবদ্ধ।
¨ নেটওয়ার্ক সেটআপ করার প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি।
¨ সার্ভারে সমস্যা হলে পুরো নেটওয়ার্ক বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ
¨ একটি স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবের সব কম্পিউটার যখন একসাথে যুক্ত থাকে।
¨ একটি অফিসের ওয়াই-ফাই বা ইথারনেট সংযোগ যার মাধ্যমে সবাই একই প্রিন্টার ব্যবহার করে।
¨ আপনার বাসায় ল্যাপটপ, স্মার্টফোন এবং গেমিং কনসোল যখন একটি রাউটারের সাথে যুক্ত থাকে।