Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৩:০৪ অপরাহ্ণ

"শৃঙ্খলার হাতেই আগামীর নেতৃত্ব"

দিনটি ছিল ২১শে ফেব্রুয়ারি। কুয়াশাভেজা ভোরে স্কুলের চারপাশ যখন নিস্তব্ধ, তখনই স্কুলের গেটে জড়ো হতে শুরু করেছে একদল শিক্ষার্থী। আজ তাদের লক্ষ্য শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো। তবে এই আয়োজনের বিশেষত্ব ছিল এর সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, যার পুরো দায়িত্বে ছিল আমাদের স্কুলের স্কাউট সদস্যরা

নেতৃত্বের প্রকাশ

সাধারণত শিক্ষকরাই সবকিছু গুছিয়ে দেন, কিন্তু এবার চেয়েছিলাম শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নেতৃত্ব দিক। স্কাউট দলনেতা এবং তার সহযোদ্ধারা মিলে পুরো কার্যক্রমের একটি চমৎকার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল।

  • শৃঙ্খলার দায়িত্ব: স্কাউট সদস্যরা শিক্ষার্থীদের উচ্চতা অনুযায়ী সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালো।

  • সমন্বয়: কার হাতে ফুলের তোড়া থাকবে, কে স্লোগান ধরবে—সবই তারা আগে থেকে ভাগ করে নিয়েছিল।

  • সহযোগিতা: ছোট ক্লাসের শিক্ষার্থীরা যাতে ভিড়ের মধ্যে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য স্কাউট সদস্যরা তাদের হাতের আঙুল ধরে আগলে রেখেছিল।

সেই মুহূর্তটি

যখন প্রভাতফেরি শুরু হলো, স্কাউট সদস্যদের বাঁশির শব্দ আর শৃঙ্খলবোধ সবাইকে মুগ্ধ করলো। রাস্তার মোড়ে মোড়ে যখন সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ছিল, তখন আমাদের স্কাউটরা অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে মানবঢাল তৈরি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পথ করে দিল। শহীদ মিনারের বেদিতে যখন তারা ফুল দিচ্ছিল, তখন তাদের চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত গর্ব আর আত্মবিশ্বাস।

নেতৃত্বের শিক্ষা

ফিরে আসার পর যখন আমি স্কাউট দলনেতাকে জিজ্ঞেস করলাম, "আজকের অভিজ্ঞতা কেমন?" সে বিনয়ের সাথে উত্তর দিল:

"স্যার, নেতৃত্ব মানে শুধু আদেশ দেওয়া নয়, বরং সবার আগে থেকে সবাইকে নিরাপদ রাখা এবং লক্ষ্য পূরণ করা।"

পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে স্কাউটিং কীভাবে একজন শিক্ষার্থীকে দায়িত্বশীল নাগরিকে রূপান্তরিত করে। তারা আজ শুধু ফুল দেয়নি, বরং শ্রদ্ধার সাথে শৃঙ্খলা আর দেশপ্রেমের এক অনন্য পাঠ শিখিয়েছে পুরো স্কুলকে।

মন্তব্য করুন