Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

১৬ মে, ২০২৬ ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ

আওয়ার অফ এআই

ল্যাবের এক কোণে বসেছিল দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অনিক। অনিক সবসময়ই একটু অন্যরকম ভাবত। পাঠ্যবইয়ের মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে নতুন কিছু তৈরি করার প্রতি তার ঝোঁক ছিল প্রবল। তবে গ্রামের সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে নিজের আইডিয়াগুলোকে ডানা মেলতে পারছিল না সে। কিন্তু আজকের দিনটি ছিল একদম আলাদা। ল্যাবে আজ আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইন—"আওয়ার অফ এআই" 

​ল্যাবের বড় স্ক্রিনটিতে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর জাদুকরী দুনিয়া উন্মোচিত হলো, অনিকের চোখ দুটো তখন বিস্ময়ে চকচক করে উঠল। চ্যাট জিপিটি (ChatGPT)-এর মতো এআই টুল ব্যবহার করে কীভাবে পড়ালেখার কঠিন বিষয়গুলো সহজে বোঝা যায়, কীভাবে সঠিক ‘প্রম্পট’ লিখে নিজের মনের মতো করে ইমেজ জেনারেট বা ছবি তৈরি করা যায় —তা হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছিল।

​অনিকের মনে হলো, সে যেন এক আলাদিনের চেরাগ পেয়ে গেছে! সে কম্পিউটারের সামনে বসে টাইপ করল—"একটি স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা যা মাটির আর্দ্রতা মেপে নিজে নিজেই ফসলে পানি দেবে।" মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্ক্রিনে ভেসে উঠল সেই ধারণার একটি চমৎকার ডিজাইন এবং তার পেছনের কোডিংয়ের প্রাথমিক রূপরেখা। অনিক বুঝতে পারল, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং আসলে শুধু প্রযুক্তি নয়, এটি হলো নিজের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনন্য হাতিয়ার 

​শুধু অনিকই নয়, ল্যাবে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাস দেখা গেল  কেউ নিজের বিজ্ঞানের প্রজেক্টের সমাধান খুঁজছে, কেউ আবার এআই-কে সহায়ক বানিয়ে চমৎকার সব ডিজিটাল আর্ট তৈরি করছে। এতদিন কম্পিউটারের স্ক্রিনে যে প্রযুক্তিকে তারা সুদূর ভবিষ্যতের কোনো বিষয় বলে ভাবত, আজ তা তাদের হাতের মুঠোয়।

​ক্যাম্পেইন শেষে ল্যাব থেকে বের হওয়ার সময় অনিকের মনে আর কোনো দ্বিধা ছিল না। তার আত্মবিশ্বাস এখন আকাশচুম্বী  সে তার বন্ধুদের বলল, "আমাদের গ্রামীণ জনপদ হয়তো শহর থেকে দূরে, কিন্তু প্রযুক্তির এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে আমরা আর পিছিয়ে থাকব না  এই এআই-কে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের গ্রামের চাষাবাদ, শিক্ষা আর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটাব।"

​পাঠ্যবইয়ের তাত্ত্বিক সীমানা পেরিয়ে এই ব্যবহারিক শিক্ষা সারওয়াতলী গ্রামের একঝাঁক তরুণের ভেতরের সুপ্ত উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগ্রত করে দিয়েছিল  তারা আর কেবল প্রযুক্তির ভোক্তা নয়, বরং বিশ্বমানের প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে নিজেরাই হয়ে উঠতে যাচ্ছিল আগামীর উদ্ভাবক. 

মন্তব্য করুন