জাহাজ নির্মাণ শিল্প (Shipbuilding Industry) বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, বিকাশমান এবং ঐতিহ্যবাহী ভারী শিল্পখাত। নদীমাতৃক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই এ দেশে জাহাজ তৈরির প্রচলন ছিল। তবে বর্তমানে এটি আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় একটি বড় রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। [
1,
2,
3,
4]
বাংলাদেশ সম্পর্কিত এই শিল্পের মূল তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. অবস্থান ও বিস্তৃতি
বাংলাদেশে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে
১০০টিরও বেশি নিবন্ধিত শিপইয়ার্ড এবং কয়েকশ মেরিন ওয়ার্কশপ রয়েছে। এর মধ্যে: [
1]
- ৭০% শিপইয়ার্ড ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও এর আশেপাশে অবস্থিত।
- ২০% চট্টগ্রামে অবস্থিত।
- ১০% খুলনা ও বরিশালে অবস্থিত। [1]
২. দেশের অর্থনীতিতে অবদান
- অভ্যন্তরীণ যাতায়াত: দেশের প্রায় ৯০% তৈলাক্ত পণ্য, ৭০% মালামাল বা কার্গো এবং ৩৫% যাত্রী আমাদের দেশীয় শিপইয়ার্ডে তৈরি জাহাজের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। [1, 2]
- কর্মসংস্থান: এই খাতে বর্তমানে প্রায় দেড় লক্ষাধিক দক্ষ ও অর্ধদক্ষ শ্রমিক সরাসরি কাজ করছেন এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবিকা এর সাথে জড়িত। [1]
- বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: ২০০৮ সালে ডেনমার্কে প্রথম সমুদ্রগামী জাহাজ 'স্টিলা মেরিজ' রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে। এরপর থেকে জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাহাজ রপ্তানি করে বাংলাদেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।