প্রভাষক
০৭ জুন, ২০২৬ ০৮:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ সাহিত্য পাঠ
অধ্যায়ঃ পদ্য
পাঠঃ • আঠার বছর বয়স - সুকান্ত ভট্টাচার্য
"অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি,
জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি।"
বাংলা সাহিত্যের আকাশে যে ক'জন কবি ধুমকেতুর মতো এসে পরাধীনতা, অনাহার আর শোষণের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম 'চিরকিশোর' কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। মাত্র একুশ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি রেখে গেছেন যুগান্তকারী সব সৃষ্টি। আজ আমরা জানবো গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অবস্থিত এই মহান কবির স্মৃতিবিজড়িত পৈত্রিক ভিটা সম্পর্কে।
কবির জন্ম কলকাতায় হলেও, তাঁর পূর্বপুরুষের আদি নিবাস বা পৈত্রিক ভিটা বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে। নিভৃত এই পল্লীটিই বহন করছে রানার, ছাড়পত্র, কিংবা আঠারো বছর বয়স-এর মতো কালজয়ী কবিতার স্রষ্টার পারিবারিক ইতিহাস।
কবি সুকান্তের পৈত্রিক ভিটাকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্যকর্ম পৌঁছে দিতে সেখানে সরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কবির স্মৃতিধন্য উনশিয়া গ্রামে ২০১০ খ্রিস্টাব্দে জেলা পরিষদ, গোপালগঞ্জের বাস্তবায়নে নির্মিত হয়েছে "কবি সুকান্ত পাবলিক লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম"।
এর মূল আকর্ষণসমূহ:
সমৃদ্ধ লাইব্রেরি: এখানে কবির জীবন ও কর্মের ওপর লেখা বইয়ের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক জ্ঞানমূলক বই রয়েছে, যা স্থানীয় শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: প্রতি বছর কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে এই অডিটোরিয়াম ও প্রাঙ্গণে বসে কবি সুকান্ত মেলা, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে সাহিত্যপ্রেমীদের সমাগম ঘটে।
কবির ভাস্কর্য: লাইব্রেরি ভবনের ঠিক পাশেই শোভা পাচ্ছে কবির আবক্ষ ভাস্কর্য, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে।
বাংলা সাহিত্যের পাঠ্যবইয়ে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের কবির জীবনী পড়ানোর সময় এই পৈত্রিক ভিটার ইতিহাস ও বর্তমান চিত্র তুলে ধরলে শিক্ষার্থীরা পাঠে অন্যরকম এক সংযোগ খুঁজে পাবে।
শিক্ষকদের জন্য পরামর্শ: শ্রেণীকক্ষে "ছাড়পত্র" বা "আঠারো বছর বয়স" কবিতাটি পড়ানোর সময় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে উনশিয়া গ্রামের এই লাইব্রেরি ও কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানের ছবি প্রদর্শন করতে পারেন। এতে পাঠদান হবে আনন্দময় ও দীর্ঘস্থায়ী।
কালের বিবর্তনে কবি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর দ্রোহ আর সাম্যের বাণী আজও প্রাসঙ্গিক। কোটালীপাড়ার উনশিয়া গ্রামের এই পৈত্রিক ভিটা ও লাইব্রেরিটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের সাহিত্যের এক জীবন্ত ইতিহাস। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও সাহিত্যের আলোয় আলোকিত করতে এই স্থানটি সংরক্ষণে আমাদের আরও যত্নবান হতে হবে।