Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৯ জুন, ২০২৬ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

সাবমেরিন কেবল

SEA-ME-WE 4 (সি-মি-উই ৪) এবং SEA-ME-WE 5 (সি-মি-উই ৫) হলো আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়াম, যা মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (South East Asia), মধ্যপ্রাচ্য (Middle East) এবং পশ্চিম ইউরোপকে (Western Europe) উচ্চগতির অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের মাধ্যমে সংযুক্ত করেছে।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহের মূল মেরুদণ্ড হলো এই দুটি সাবমেরিন কেবল। এগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (BSCPLC) দ্বারা পরিচালিত হয়।

নিচে এই দুটি কেবলের বিস্তারিত তুলনামূলক তথ্য দেওয়া হলো:

১. SEA-ME-WE 4 (SMW4)

  • সংযোগের বছর: এটি বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল সংযোগ। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কেবলে যুক্ত হয়।

  • ল্যান্ডিং স্টেশন: এটি কক্সবাজারের ঝিলংজায় অবস্থিত ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত।

  • দৈর্ঘ্য ও রুট: প্রায় ১৮,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কেবলটি সিঙ্গাপুর থেকে শুরু হয়ে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিশর, ইতালি, তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া হয়ে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত।

  • ধারণক্ষমতা: প্রযুক্তিগতভাবে এর ব্যান্ডউইথ ধারণক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম (শুরুর দিকে ১.২৮ Tbps ছিল, যা পরে আপগ্রেড করা হয়েছে)।

    ২. SEA-ME-WE 5 (SMW5)

    • সংযোগের বছর: এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ এই কেবলের সাথে সংযুক্ত হয়।

    • ল্যান্ডিং স্টেশন: এই কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশনটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অবস্থিত।

    • দৈর্ঘ্য ও রুট: প্রায় ২০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কেবল সিস্টেমটিও সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে এটি তুলনামূলক নতুন প্রযুক্তির হওয়ায় অনেক বেশি ডেটা দ্রুত পারাপার করতে পারে।

    • ধারণক্ষমতা: এর ডিজাইন ক্যাপাসিটি অনেক বেশি (প্রায় ৩৬.৬ Tbps)। বর্তমান বাংলাদেশের মোট ইন্টারনেটের একটি বড় অংশ এই কেবলের মাধ্যমে আসে।

    কেন এই দুটি কেবল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

    • নেটওয়ার্ক রিডান্ডেন্সি (বিকল্প ব্যবস্থা): কোনো কারণে কক্সবাজারের SMW4 কেবলটি কাটা পড়লে বা রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চললে, কুয়াকাটার SMW5 দিয়ে দেশের ইন্টারনেট সচল রাখা যায়। অর্থাৎ একটি ডাউন থাকলে অন্যটি ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে।

    • ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ: দেশের ফ্রিল্যান্সিং, আইটি সেক্টর, ব্যাংকিং এবং সাধারণ মানুষের উচ্চগতির ইন্টারনেটের চাহিদা পূরণে এই দুটি কেবলই প্রধান উৎস।

    তথ্য: বাংলাদেশ বর্তমানে তার তৃতীয় সাবমেরিন কেবল SEA-ME-WE 6 (SMW6)-এ যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেটের চাহিদা মেটাতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।



মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট