প্রভাষক
১৫ জুন, ২০২৬ ০৮:১০ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৮
v বৈদেশিক বিনিময় হারের ধারণা (Concept of Foreign Exchange Rate):
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে একেক দেশের মুদ্রার মান একেক রকম হয়। তাই বৈদেশিক বিনিময়ের সময় দেশীয় মুদ্রা দ্বারা যে পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা কেনা সম্ভব হয় তকে বৈদেশিক বিনিময় হার বলে। অন্যভাবে বলা যায়, এক দেশের মুদ্রার সাথে অন্য দেশের মুদ্রার বিনিময়ের অনুপাতই হলো বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার। বিনিময় হারের ওপর মুদ্রার লেনদেন নির্ভর করে। এক দেশের মুদ্রাকে অন্য দেশের মুদ্রায় রূপান্তর করা হয় যে প্রক্রিয়ায় তাকে বৈদেশিক বিনিময় বলে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি বাংলাদেশের ১০৮ টাকা দিয়ে আমেরিকার এক ডলার কেনা যায়, তাহলে টাকার সাথে ডলারের বিনিময় হার হবে ১০৮ টাকা = ১ ডলার। অর্থাৎ, বিনিময় হার ১/১০৮ ভাগ। সুতরাং, এক দেশের মুদ্রার সাথে অন্য দেশের মুদ্রার মূল্যের অনুপাতই হলো বিনিময় হার।
v প্রত্যয়পত্রের ধারণা (Concept of Letter of Credit):
প্রত্যয়পত্র বা Letter of credit (LC) হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে আর্থিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের মনোনীত ব্যাংক দুই পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ব্যবসায়-বাণিজ্যে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। সাধারণ অর্থে, প্রত্যয়পত্র হলো ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত একপ্রকার ঋণের দলিল। ব্যাপক অর্থে, যে পত্র বা দলিলের মাধ্যমে ব্যাংক আমদানিকারকের পক্ষে রপ্তানিকারকের অনুকূলে রপ্তানিকারককে পণ্যের মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে তাকে প্রত্যয়পত্র বলে। ব্যাংকের এরূপ নিশ্চয়তা বা প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে রপ্তানিকারক আমদানিকারককে বাকিতে পণ্য প্রেরণের ব্যবস্থা করে থাকে।
v রেমিটেন্স সম্পর্কে ধারণা (Concept of Remittance):
ইংরেজি Remittance শব্দের অর্থ হলো প্রদানের জন্য কোথাও অর্থ প্রেরণ করা। বর্তমানকালে একদেশ থেকে অন্যদেশে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে রেমিটেন্স (Remittance) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণ অর্থে, রেমিটেন্স বলতে প্রবাসে কর্মরত নাগরিকদের স্বদেশে প্রেরিত অর্থকে বোঝায়। বাংলাদেশে রেমিটেন্স বলতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে বোঝানো হয়। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্জিত আয় সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রেরণে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে 'ওয়েজ আর্নাস স্কিম' চালু করা হয়। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের মাধ্যমে বা অন্যকোনো বৈধ মাধ্যমে তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকেন। যা রেমিটেন্স নামে পরিচয় লাভ করে।