Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৫ জুন, ২০২৬ ০৮:১৮ অপরাহ্ণ

বিমার ধারণা

v  বিমার ধারণা (Concept of Insurance)

মানব সৃষ্টির উষালগ্ন থেকে মানুষের জীবন এক মুহূর্তের জন্যও ঝুঁকিমুক্ত ছিল না। এরপর মানুষ যখন সম্পদ অর্জন করতে শিখল তখন থেকে সম্পদও ঝুঁকির আওতাভুক্ত হয়ে পড়ল। জীবন ও সম্পদ উভয়ের নিরাপত্তার ব্যাপারে মানুষ প্রাথমিক অবস্থায় চিন্তা-ভাবনা না করলেও সভ্যতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশের সাথে সাথে জীবন ও সম্পদকে ঝুঁকিমুক্ত করার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা শুরু করল। এ চিন্তা-ভাবনার ফলস্বরূপ প্রথম যে বিমাব্যবস্থার প্রবর্তন হয় সেটি হলো নৌ বিমা। এরপর সমাজ, সভ্যতা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের চাহিদার প্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে অগ্নি বিমা, জীবন বিমা ও অন্যান্য বিমার উদ্ভব হয়। উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে বর্তমানে বিমা মানুষের ব্যক্তিক ও ব্যবসায়িক জীবনে অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

বিমা হচ্ছে এক ধরনের চুক্তি। এর মাধ্যমে এক পক্ষ অপর পক্ষকে প্রতিদানের বিনিময়ে (প্রিমিয়ামের বিনিময়ে) কোনো দুর্ঘটনায় ক্ষতিজনিত ঝুঁকি বহন করার অঙ্গীকার করে। চুক্তির মাধ্যমে ঝুঁকি বহন করার অঙ্গীকার করা হয়, তাই একে বিমাচুক্তি বলা হয়। চুক্তিতে উল্লিখিত ঝুঁকি যে পক্ষ বহন করে তাকে বিমাকারী (Insurer) বলে। আর যে পক্ষ প্রিমিয়াম প্রদান করে এবং বিমাকারীর কাছ থেকে ঝুঁকির নিশ্চয়তা পায় তাকে বিমাগ্রহীতা বা বিমাধারী (Insured) বলে। যে পত্রে এ চুক্তির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয় তাকে বিমাপত্র (Insurance policy) বলে। বিমাকারী বা বিমাগ্রহীতা উভয়েই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হতে পারে।

v  বিমা চুক্তি (Insurance Contract)

মনুষের ব্যক্তিগত জীবন ও তার সহায় সম্পত্তি সর্বদা ঝুঁকি দ্বারা পরিবেষ্টিত। তাই এসব ঝুঁকি বা ক্ষয়ক্ষতির বিরুদে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমা চুক্তি করা হয়। মানুষের জীবন ও সম্পদ সর্বদাই অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি দ্বারা পরিবেষ্টিত। কারণ যেকোনো সময় মানুষের মৃত্যু বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে কিংবা সম্পত্তির ক্ষতি হতে পারে। এই ক্ষতির বিপক্ষে আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করাই বিমার কাজ। তাই মানুষ প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য সৃষ্ট ঝুঁকিজনিত আর্থিক ক্ষতি হতে নিষ্কৃতি পেতে বিমাচুক্তি স্বাক্ষর করে। একারণে বিমাকে একটি বৈধ চুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যে চুক্তির মাধ্যমে প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাগ্রহীতা তার জীবন ও সম্পত্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি বিমাকারীর ওপর অর্পণ করে, তাকে বিমাচুক্তি বলে। নাবালক, পাগল কিংবা দেউলিয়া ব্যক্তি চুক্তি সম্পাদনের যোগ্য নয়। বিমাচুক্তিতে দুটি পক্ষ (যেমন: বিমাকারী বা বিমা প্রতিষ্ঠান ও বিমাগ্রহীতা) থাকে। এই চুক্তির শর্তানুযায়ী বিমাকারী নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাকৃত বিষয়বস্তুর ওপর সংঘটিত ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে থাকে।


মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট