প্রভাষক
০৪ জুলাই, ২০২৬ ০৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি: বীজ উৎপাদন কৌশল
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ কৃষি শিক্ষা ১
অধ্যায়ঃ তৃতীয় অধ্যায়: বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি
পাঠ ৪.১: আলুর বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি
উন্নত গুণগত মানসম্পন্ন আলু বীজ উৎপাদনের আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ ও কলাকৌশল
উপযুক্ত জমি নির্বাচন: আলু চাষের জন্য বেলে দোঁআশ মাটি সবচেয়ে উত্তম। জমি অবশ্যই অন্য সোলানেসী ক্ষেত থেকে অন্তত ৩০ মিটার দূরে হতে হবে।
বীজ শোধন প্রক্রিয়া: অঙ্কুরোদগমের আগে বরিক এসিড দ্রবণে (২০ গ্রাম/লিটার) বীজ আলু ১৫-২০ মিনিট চুবিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নিতে হবে।
বীজ প্রস্তুতি ও রোপণ দূরত্ব: আস্ত আলু ব্যবহার করা ভালো। আলু কেটে লাগালে প্রতি টুকরায় অন্তত ২টি সতেজ চোখ থাকতে হবে। বপনের দূরত্ব সাধারণত ৬০ × ২৫ সে.মি.।
উন্নত মানের আলু বীজ উৎপাদনের ধাপসমূহ
মাটি শোধন ও রোগবালাই দমন
ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ: ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধের জন্য শেষ চাষের আগে প্রতি শতাংশে ৮০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার দিয়ে মাটি শোধন করতে হবে।
লেট ব্লাইট ও কাটুই পোকা: মেঘলা এবং কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় লেট ব্লাইটের আক্রমণ রুখতে ছত্রাকনাশক এবং কাটুই পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার আবশ্যক।
হামপুলিং (Haulm Pulling)
গাছ উপড়ে ফেলা: আলু তোলার ৭-১০ দিন পূর্বে মাটির ওপরের আলু গাছের সম্পূর্ণ অংশ উপড়ে ফেলাকে হামপুলিং বলে।
সুবিধাসমূহ: এর ফলে মাটির নিচে আলুর খোলস শক্ত হয়, রোগবালাই কম ছড়ায় এবং আলু হিমাগারে দীর্ঘদিন ভালোভাবে সংরক্ষণ করার গুণ অর্জন করে।
আলু চাষের বিশেষ পরিচর্যা ও হামপুলিং
পাঠ ৪.২: পেঁয়াজ ও সরিষার বীজ উৎপাদন
মসলা ও তৈলবীজ ফসলের উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদনের চাষ পদ্ধতি
তৈলবীজ ফসল: সরিষা বাংলাদেশের প্রধান তৈলবীজ ফসল। সরিষা বীজে ৪০-৪৪% অত্যন্ত পুষ্টিকর তেল থাকে এবং এর খৈল গবাদিপশুর উন্নত খাদ্য ও উত্তম জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উপযুক্ত সময়: মধ্য অক্টোবর থেকে শেষ অক্টোবর সরিষার বীজ বপনের সর্বোত্তম সময়।
বীজের হার: জাতভেদে প্রতি হেক্টরে ৭-৯ কেজি বীজ প্রয়োজন।
সেচ ব্যবস্থা: ফুল ফোটার শুরুতে এবং শুটি বৃদ্ধির সময়ে মোট ১-২ বার হালকা সেচ দিতে হয়।
সরিষা বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি ও গুরুত্ব
উপকরণ / সারের নাম
পেঁয়াজ বীজ ফসলের জন্য (প্রতি হেক্টর)
সরিষা বীজ ফসলের জন্য (প্রতি হেক্টর)
বীজ / কন্দের হার
১.২ - ১.৫ টন (কন্দ বা বাল্ব)
৭ - ৯ কেজি (বীজ)
গোবর সার
৮ - ১০ টন
৩ - ৫ টন
ইউরিয়া সার (N)
২০০ কেজি
২০০ - ৩০০ কেজি
টিএসপি সার (P)
১২৫ কেজি
১৫০ - ১৮০ কেজি
এমওপি সার (K)
২৮০ কেজি
৭০ - ১০০ কেজি
জিপসাম সার (S)
১০০ কেজি
১২০ - ১৮০ কেজি
পেঁয়াজ ও সরিষার বীজ ফসলের সার ও বীজ হার
পৃথকীকরণ দূরত্ব
সরিষা পরপরাগায়নধর্মী ফসল হওয়ায় জাতের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য একই গোত্রের অন্য ফসলের মাঠ থেকে কমপক্ষে ১০০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
রোগিং (Roguing)
ফুল ফোটার আগে ও ফুল ফোটার সময় বিজাতীয়, অস্বাভাবিক লম্বা এবং রোগাক্রান্ত গাছগুলো মাঠ থেকে শিকড়সহ তুলে নষ্ট করে ফেলতে হবে।
পোকা ও মৌমাছি রক্ষা
জাব পোকা ও থ্রিপস দমনে বিকেলে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। সকালে স্প্রে করা যাবে না যাতে পরাগায়নকারী উপকারী মৌমাছির কোনো ক্ষতি না হয়।
বীজ ফসলের অপরিহার্য মাঠ রক্ষণাবেক্ষণ
বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ: সদ্য মাড়াইকৃত বীজ শুকানো, ঝাড়াই-পরিষ্কারকরণ, গ্রেডিং এবং জীবাণু ও পোকামাকড় থেকে রক্ষার জন্য শোধন করে বস্তাবন্দি করার সমন্বিত পদ্ধতি।
আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ: ধান ও গম বীজের আর্দ্রতা ১২% এর নিচে এবং অন্যান্য তৈল ও সবজি বীজের ক্ষেত্রে ১০% এর নিচে সযত্নে রাখতে হবে।
সঠিক শুকানো: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত কড়া রোদে বীজ শুকাতে হবে। কটকট শব্দে বীজ ভাঙলে বোঝা যায় তা যথাযথভাবে শুকিয়েছে।