পোলারিমিটার (Polarimeter): গঠন ও কার্যনীতি
পোলারিমিটার হলো এমন একটি যন্ত্র, যার সাহায্যে অপটিক্যালি সক্রিয় (Optically Active) পদার্থ সমতল-ধ্রুবিত আলোকে কত কোণে আবর্তিত করে তা পরিমাপ করা হয়।
পোলারিমিটারের গঠন
একটি সাধারণ পোলারিমিটারের প্রধান অংশগুলো হলো—
-
আলোক উৎস (Light Source)
-
সাধারণত সোডিয়াম বাতি (Sodium Lamp) ব্যবহার করা হয়।
-
এটি একবর্ণী (Monochromatic) আলো প্রদান করে।
-
পোলারাইজার (Polarizer)
-
সাধারণ আলোকে সমতল-ধ্রুবিত (Plane Polarized) আলোতে রূপান্তরিত করে।
-
সাধারণত নিকোল প্রিজম বা পোলারয়েড ব্যবহৃত হয়।
-
নমুনা নল (Sample Tube)
-
এতে অপটিক্যালি সক্রিয় দ্রবণ রাখা হয়।
-
নলের দৈর্ঘ্য সাধারণত 1–2 ডেসিমিটার হয়।
-
অ্যানালাইজার (Analyzer)
-
এটি আরেকটি ঘূর্ণনযোগ্য নিকোল প্রিজম।
-
আলো কত কোণে আবর্তিত হয়েছে তা নির্ণয় করে।
-
আইপিস ও স্কেল (Eyepiece and Scale)
-
আইপিস দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
-
স্কেল থেকে ঘূর্ণন কোণ (Rotation Angle) পড়া হয়।
কার্যনীতি (Working Principle)
পোলারিমিটার অপটিক্যাল ঘূর্ণনের নীতিতে (Optical Rotation) কাজ করে।
কার্যধাপ:
-
সোডিয়াম বাতি থেকে একবর্ণী আলো নির্গত হয়।
-
পোলারাইজার সেই আলোকে সমতল-ধ্রুবিত আলোতে পরিণত করে।
-
এই আলো নমুনা নলের মধ্যে থাকা অপটিক্যালি সক্রিয় দ্রবণের মধ্য দিয়ে যায়।
-
দ্রবণটি সমতল-ধ্রুবিত আলোর কম্পন তলকে একটি নির্দিষ্ট কোণে ডানে (+) বা বামে (−) ঘুরিয়ে দেয়।
-
অ্যানালাইজার ঘুরিয়ে সর্বাধিক বা সমান উজ্জ্বলতার অবস্থান নির্ণয় করা হয়।
-
স্কেল থেকে যে কোণ পাওয়া যায়, সেটিই অপটিক্যাল ঘূর্ণন (Optical Rotation, α)।