Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৪ জুলাই, ২০২৬ ০২:২২ অপরাহ্ণ

জীবন পাঠ অধ্যায়

নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় (জীবের ধারণা ও শ্রেণিবিন্যাস) সম্পর্কে পর্যালোচনা ও উন্নয়ন প্রস্তাবনা


নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকের প্রথম অধ্যায়ে জীবের ধারণা, জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা (যেমন— ভৌত জীববিজ্ঞান, ফলিত জীববিজ্ঞান), জীবের শ্রেণিবিন্যাস, শ্রেণিবিন্যাসের সংজ্ঞা, শ্রেণিবিন্যাসের জনক, শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য, জীবজগতের রাজ্যসমূহের পরিচিতি, মানুষের শ্রেণিবিন্যাস, দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি এবং কয়েকটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়বস্তুগুলো জীববিজ্ঞানের ভিত্তি গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও উপস্থাপনার ধরন শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও আনন্দময় শিক্ষার (Learning with Happiness) দর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


বর্তমান অধ্যায়টি অনেকাংশেই তথ্য ও পরিভাষানির্ভর। বিশেষ করে জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার নাম, শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ এবং বৈজ্ঞানিক নামগুলো শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করতে হয়। ফলে নবম শ্রেণিতে জীববিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় থেকেই অনেক শিক্ষার্থীর মনে বিষয়টি সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হয় যে জীববিজ্ঞান মানেই মুখস্থনির্ভর বিষয়। এর ফলে বিষয়টির প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।


অধ্যায়ের বিষয়বস্তু পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই; বরং উপস্থাপনার ধরনে পরিবর্তন আনাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যায়ের শুরুতে যদি বাস্তবধর্মী ও আকর্ষণীয় চিত্র, ইনফোগ্রাফিক, ধারণাচিত্র (Concept Map) অথবা জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার ব্যবহারভিত্তিক চিত্র সংযোজন করা হতো, তাহলে শিক্ষার্থীরা সহজেই বিষয়টির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারত।


এছাড়া শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব টেবিল বা ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করলে তা সহজে বোঝা ও মনে রাখা সম্ভব হতো। দ্বিপদ নামকরণ ও বৈজ্ঞানিক নামগুলো কেবল মুখস্থ করার পরিবর্তে তাদের অর্থ, উৎপত্তি, মনে রাখার কৌশল (Mnemonic) এবং বাস্তব উদাহরণ যুক্ত করলে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি আরও সহজে আয়ত্ত করতে পারত।


বর্তমানে মানুষের শ্রেণিবিন্যাসের একটি মাত্র উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি উদ্ভিদ (যেমন— ধান বা আম) এবং একটি প্রাণীর (যেমন— ব্যাঙ বা বিড়াল) শ্রেণিবিন্যাস উদাহরণ হিসেবে যুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জীবের শ্রেণিবিন্যাসের মধ্যে মিল-অমিল বুঝতে পারত এবং ধারণা আরও সুদৃঢ় হতো।


জীববিজ্ঞান এমন একটি বিষয়, যার একটি বড় অংশ শিক্ষার্থীরা স্বশিক্ষণের মাধ্যমে শেখে। কারণ এখানে পদার্থবিজ্ঞান বা গণিতের মতো অধিক গাণিতিক বিশ্লেষণ নেই। ফলে পাঠ্যপুস্তক যদি আরও চিত্রসমৃদ্ধ, ছকভিত্তিক, কার্যক্রমনির্ভর এবং সহজ ভাষায় উপস্থাপিত হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বিষয়গুলো সহজে শিখতে পারবে। এতে জীববিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে, মুখস্থনির্ভরতা কমবে এবং অর্থবহ ও স্থায়ী শিখন নিশ্চিত হবে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট