Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৫৫ অপরাহ্ণ

নিরীহ বাঙালি -রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটি একটি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক ও সংস্কারমুখী রচনা। এতে তিনি তৎকালীন বাঙালি সমাজের অলসতা, ভণ্ডামি, কর্মবিমুখতা এবং মেকি বীরত্বকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের বাণে বিদ্ধ করেছেন।

​প্রবন্ধটির মূল ভাব ও প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

মূল ভাব ও সারসংক্ষেপ

  • বাঙালির মিথ্যা আত্মতুষ্টি ও অলসতা: বাঙালি নিজেকে ‘নিরীহ’ বা শান্তিকামী বলে দাবি করলেও রোকেয়া দেখিয়েছেন যে এই ‘নিরীহতা’ আসলে কোনো গুণ নয়, বরং তা অলসতা, কাপুরুষতা এবং শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতারই নামান্তর। বাঙালি আরামপ্রিয়, ঘরের কোণে বসে থাকতে পছন্দ করে এবং কঠিন পরিশ্রম বা ঝুঁকি নিতে ভয় পায়।
  • ‘মুখের বীরত্ব’ ও কাজের শূন্যতা: বাঙালি কথায় নবাব কিন্তু কাজে শূন্য। তারা ঘরের কোণে বসে বা সভা-সমিতিতে কেবল বড় বড় বক্তৃতা দিতে পারে, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো সাহসিকতা বা কর্মতৎপরতা দেখাতে পারে না। তাদের সমস্ত বীরত্ব কেবল কথার ফানুস।
  • অতীতের অন্ধ অনুকরণ ও মেকি ঐতিহ্যপ্রীতি: বাঙালিরা নিজেরা নতুন কিছু সৃষ্টি না করে পূর্বপুরুষদের অতীত গৌরব নিয়ে বৃথা আস্ফালন করে। কাজ না করে অতীতের দোহাই দিয়ে বেঁচে থাকাকেই তিনি বাঙালির উন্নতির প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
  • নারী ও সমাজভাবনা: বাঙালি পুরুষরা বাইরের জগতে নিজেদের চরম ‘নিরীহ’ ও দুর্বল হিসেবে প্রকাশ করলেও ঘরের ভেতরে নারীদের ওপর নিজেদের আধিপত্য ও কর্তৃত্ব ফলাতে পিছপা হয় না। এই ভণ্ডামির প্রতি লেখিকার তীব্র কটাক্ষ ফুটে উঠেছে।

মূল বার্তা

​বেগম রোকেয়া কেবল সমালোচনা করেই ক্ষান্ত হননি; তার আসল উদ্দেশ্য ছিল ঘুমন্ত বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তোলা। অলসতা ও মেকি ভাবমূর্তি ত্যাগ করে বাঙালি যেন শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যায় এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সাহসিকতার পরিচয় দেয়—এটিই এই গদ্যের মূল আবেদন।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট