উৎস: কবিতাটি কবির বিখ্যাত 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি পরবর্তীতে 'শামসুর রাহমানের শ্রেষ্ঠ কবিতা' সংকলনে স্থান পায়। [1]মূল উপজীব্য (রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম): কবিতার মূল বিষয় হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনের নির্মম ইতিহাস। স্বাধীনতা কোনো সহজ লভ্য বস্তু ছিল না; এটি পেতে বাঙালি জাতিকে "রক্তগঙ্গায় ভাসতে" হয়েছে এবং সহ্য করতে হয়েছে "খাণ্ডবদাহন" (ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড)। [1, 2]অসহায় মানুষের আত্মত্যাগ: কবি এখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ত্যাগকে তুলে ধরেছেন:
সাকিনা বিবি ও হরিদাসী: পাকিস্তানি মিলিটারির নির্যাতনে সাকিনা বিবির কপাল ভেঙেছে আর হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে গেছে (বিধবা হয়েছেন)।
থুত্থুরে বুড়ো ও অনাথ কিশোরী: মোল্লাবাড়ির পোড়া ঘরের নড়বড়ে খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বিধবা, উদাস দাওয়ায় বসা বুড়ো এবং পথের ধারে শূন্য থালা হাতে বসে থাকা হাড্ডিসার অনাথ কিশোরী—সবাই স্বাধীনতার জন্য অপেক্ষমাণ।
অবুঝ শিশু: যে মা-বাবার লাশের ওপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়েছিল। [1, 2, 3]
প্রতিরোধের প্রতীক (মুক্তিসেনা): শুধু ধ্বংসের চিত্রই নয়, কবি এখানে সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও বলেছেন। শাহবাজপুরের জোয়ান কৃষক সগির আলী, জেলেপাড়ার সাহসী কেষ্ট দাস, মেঘনার দক্ষ মাঝি মতলব মিয়া, ঢাকার রিকশাচালক রুস্তম শেখ এবং যার ফুসফুস এখন পোকার দখলে থাকা সত্ত্বেও কাঁধে রাইফেল নেওয়া এক অমিত সাহসী তরুণ—যাদের নেতৃত্বে একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হতে চলেছে। [1]