Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ণ

নিমগাছ গল্প
নিমগাছ' গল্পের মূলভাব (Main Theme)
  • নিমগাছের উপযোগিতা ও অবহেলা: গল্পের শুরুতেই দেখা যায় একটি নিমগাছের ছাল, পাতা, ডাল মানুষ নানা প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। কবিরাজরা এর পাতা ও বাকল দিয়ে ঔষধি ওষুধ তৈরি করেন, সাধারণ মানুষ রোগমুক্তির জন্য এর হাওয়া ও পাতা ব্যবহার করেন। সবাই গাছটির থেকে উপকার নিলেও, আবর্জনার স্তূপে অবহেলায় দাঁড়িয়ে থাকা গাছটির কেউ সামান্য যত্ন বা পরিচর্যা করে না। [1, 2, 3]
  • কবির দৃষ্টি ও মূল্যায়ন: একদিন একজন কবি এসে নিমগাছটির ছাল ছাড়াল না, পাতাও ছিঁড়ল না; বরং গাছটির রূপ ও থোকা থোকা ফুলের সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। এই প্রথম কেউ তার কোনো ক্ষতি না করে কেবল তার গুণের প্রশংসা করায় গাছটির মনে এক তীব্র ভালো লাগা তৈরি হয় এবং সে কবির সাথে চলে যেতে চায়। []
  • শিকড়ের বন্ধন: গাছটি কবির সাথে চলে যেতে চাইলেও পারে না, কারণ মাটির গভীরে তার শিকড় অনেক দূর ছড়িয়ে গেছে। গাছ তো আর স্থান পরিবর্তন করতে পারে না। [1]
  • গল্পের আসল ম্যাজিক লাইন (নারীর প্রতীক): গল্পের শেষ লাইনে লেখক পুরো গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। লেখক বলেছেন— "ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউটার ঠিক এই দশা"। এখানেই লুকিয়ে আছে গল্পের মূল প্রতিপাদ্য। নিমগাছটি আসলে আমাদের বাঙালি সমাজের সংসারজালের নাগপাশে আবদ্ধ, অবহেলিত ও আত্মত্যাগী গৃহবধূর প্রতীক [1, 2, 3]
সংক্ষেপে মূল কথা: নিমগাছ যেমন নীরবে সবাইকে উপকার দিয়ে নিজে অবহেলার পাত্র হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি একটি পরিবারের লক্ষ্মী বউটিও দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি ও আত্মত্যাগ দিয়ে পুরো সংসারকে আগলে রাখে। কিন্তু বিনিময়ে সে পরিবার থেকে কোনো স্বীকৃতি বা যত্ন পায় না। মাঝে মাঝে চরম অবহেলা ও যন্ত্রণায় তার এই বন্দিজীবন ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করলেও, সংসারের মায়া ও কর্তব্যের গভীর শিকড় তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে, যা সে ছিঁড়ে বের হতে পারে না। [, 2, 3]
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট