সহকারী শিক্ষক
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:২৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ চারু ও কারুকলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-২
পট পটুয়া কামরুল হাসান হলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, নকশাকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, যাকে লোকশিল্প ও আধুনিক চিত্ররীতির অনন্য সংমিশ্রণের জন্য 'পটুয়া' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত জ্যামিতিক নকশা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতীকের নকশাকার হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।
সংক্ষিপ্ত পরিচয়
জন্ম: ২ ডিসেম্বর ১৯২১ (কলকাতা, ভারত)
মৃত্যু: ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮ (ঢাকা, বাংলাদেশ)
শিক্ষাজীবন: সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়, কলকাতা (১৯৪৭)
শিল্পশৈলী ও অবদান
লোকশিল্প ও আধুনিকতার মেলবন্ধন: তিনি বাংলার ঐতিহ্যবাহী পটাচিত্র, লোকজ পুতুল, আল্পনা ও তাতশিল্পের উপাদানের সাথে পশ্চিমা আধুনিক চিত্রকলার (বিশেষ করে কিউবিজম ও এক্সেপ্রশোনিজমের) সমন্বয় ঘটিয়ে নিজস্ব এক স্বতন্ত্র শৈলী গড়ে তোলেন।
জাতীয় প্রতীক ও গ্রাফিক্স ডিজাইন: বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সঠিক অনুপাত ও জ্যামিতিক রূপ নির্ধারণ করা ছাড়াও রাষ্ট্রীয় প্রতীক (Coat of Arms), বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরটিসি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতো বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতীক (লোগো) তাঁর হাতে তৈরি।
বিপ্লবী পোস্টার ও প্রতিবাদ: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৮৮ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংকটে তাঁর শিল্পকর্ম প্রতিবাদের ধারালো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
বিসিক (BSCIC) নকশা কেন্দ্র: দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) নকশা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে হস্তশিল্পের উন্নয়ন ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পীদের পুনর্জীবনে অবদান রাখেন।
কালজয়ী চিত্রকর্ম ও ব্যঙ্গচিত্র
এই দানবদের হত্যা করতে হবে (১৯৭১): পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের হিংস্র মুখাবয়ব নিয়ে আঁকা ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পোস্টার, যা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে (১৯৮৮): মৃত্যুর মাত্র কিছুক্ষণ আগে জাতীয় কবিতা উৎসবের মঞ্চে বসে আঁকা তত্কালীন স্বৈরাচারবিরোধী বিখ্যাত স্কেচ।
তিন কন্যা: গ্রামবাংলার নারীদের লালিত্য ও লোকজ আবহে আঁকা তাঁর অন্যতম সেরা তেলরং চিত্র।
নাইওর, উঁকি ও পেঁচা: লোকজ রূপকথা ও গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক গতিময়তা ফুটিয়ে তোলা জনপ্রিয় চিত্র সিরিজ।
ঐতিহ্য
জয়নুল আবেদীনের পর বাংলাদেশের চারুকলা আন্দোলন ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরিতে কামরুল হাসানের অবদান সর্বাধিক। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক (১৯৭৭) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৯৫, মরণোত্তর) ভূষিত হন।