সহকারী শিক্ষক
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ চারু ও কারুকলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৩
নকশীকাঁথা হলো বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন, যা সুচ ও রঙিন সুতার শৈল্পিক সেলাইয়ে কাপড়ের ক্যানভাসে গ্রামীণ গল্প ও রূপকথা ফুটিয়ে তোলে। সাধারণ কাঁথার ওপর হাত দিয়ে বৈচিত্র্যময় নকশা তোলা হলে তা 'নকশীকাঁথা' হিসেবে পরিচিতি পায়।
মূল বৈশিষ্ট্য ও তৈরি পদ্ধতি
উপাদান: সাধারণত কয়েক স্তরের সুতি শাড়ি, ধুতি বা নতুন কাপড় একত্র করে পাড় থেকে তোলা রঙিন সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়।
সেলাই কৌশল: 'কাঁথা ফোঁড়' বা রান সেলাই (Running Stitch) এর মূল ভিত্তি। এছাড়া পাটি সেলাই, জালি সেলাই, হাঁস সেলাই ও বাঁশ সেলাইয়ের মাধ্যমে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।
লোকজ মোটিফ: নকশায় প্রধানত পদ্মফুল, জীবনবৃক্ষ (Tree of Life), ময়ূর, পাখি, হাতি, ঘোড়া, সূর্য, পালকি, নদীর দৃশ্য ও গ্রামীণ জীবনযাত্রার আবহ ব্যবহার করা হয়।
নকশীকাঁথার প্রচলিত প্রকারভেদ
লেপ কাঁথা: শীত নিবারণের জন্য তৈরি ভারী ও মোটা আকারের কাঁথা।
সুজনি কাঁথা: বিশেষ অনুষ্ঠান বা মেহমানদারিতে বসার ও বিছানোর জন্য ব্যবহৃত সুশিল্পিত কাঁথা।
বাইটন কাঁথা: বই-পুস্তক, মূল্যবান বস্ত্র বা অলংকার ঢেকে রাখার জন্য তৈরি পোশাক-আচ্ছাদন।
আড়শিলতা: আয়না, চিরুনি ও প্রসাধনী মোড়ানোর জন্য ছোট আকৃতির আলংকারিক কাঁথা।
রুমাল ও ওড়ার কাঁথা: ব্যক্তিগত ব্যবহার বা তোয়ালে হিসেবে ব্যবহৃত কাঁথা।
ভৌগোলিক সমৃদ্ধি ও সাহিত্যিক গুরুত্ব
বিখ্যাত অঞ্চল: বাংলাদেশের যশোর, জামালপুর, ফরিদপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চল নকশীকাঁথার বুননশিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ।
সাহিত্যে প্রতিফলন: পল্লীকবি জসিমউদ্দীন তাঁর বিখ্যাত গীতিকাব্য 'নকশী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯)-এ এই শিল্পকে গ্রামীণ প্রেম ও বিরহের এক চিরন্তন প্রতীক হিসেবে অমর করে রেখেছেন।