কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধটি আমাদের বাস্তব জীবনে পরিকল্পনা ও কর্মতৎপরতার গুরুত্ব বোঝাতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে এই প্রবন্ধের মূল পাঠ ও মূলভাব সহজভাবে আলোচনা
ভাব ও কাজের পার্থক্য:ভাব ও কাজের মধ্যে পার্থক্য অনেক। ভাব হলো মানুষের মনে কোনো ভালো চিন্তা বা উদ্দীপনার জন্ম দেওয়া, আর কাজ হলো সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। ভাব ছাড়া কাজ যেমন প্রাণহীন, তেমনি কাজ ছাড়া শুধু ভাব কোনো সুফল আনে না।
অহেতুক আবেগের ক্ষতি: আমাদের দেশে অনেক সময় মানুষের আবেগ বা ভাবকে জাগিয়ে তোলা সহজ হয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও কাজের অভাবে সেই আবেগ কর্পূরের মতো উড়ে যায়। শুধু মুখে বড় বড় কথা বা সাময়িক উত্তেজনা তৈরি করলে দেশের বা সমাজের কোনো স্থায়ী কল্যাণ হয় না।
স্বার্থান্বেষী নেতা ও মোসাহেব: কিছু মানুষ নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষের সরল অনুভূতি ও আবেগকে উসকে দেয়। এর ফলে মানুষ সাময়িকভাবে উত্তেজিত হয়ে কাজ শুরু করলেও, সঠিক নেতৃত্বের অভাবে মাঝপথে সব ভেস্তে যায়। এতে মানুষের মনের উদ্যম চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়।
সঠিক কর্মপন্থা: লেখক বলেছেন, যদি কাউকে কোনো ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হয়, তবে আগে কাজের সঠিক পরিকল্পনা ও সুড়ঙ্গ পথ (কাজের উপায়) তৈরি রাখতে হবে। তা না হলে যে উদ্দীপনা তৈরি হবে, তা হুজুগে পরিণত হবে।
উপসংহার: ভাবকে কাজে লাগাতে হবে দেশের কল্যাণে। আত্মশক্তির জাগরণ ঘটিয়ে অন্ধ অনুকরণ বা হুজুগ পরিহার করে বাস্তবমুখী কাজ করাই এই প্রবন্ধের মূল শিক্ষা।