ঝুমকোর মতো চমৎকার ফুল: ওড়া গাছের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর অনন্য সুন্দর ফুল। এর ফুলগুলোর পাপড়ি গাঢ় গোলাপি বা লালচে-বেগুনি রঙের হয় এবং এর অসংখ্য সাদা ও গোলাপি পুংকেশর চারদিকে জালের মতো ছড়ানো থাকে। ফুলগুলো গাছের ডালে যখন উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে, তখন দেখতে অবিকল গ্রামীণ নারীদের ঝুমকো কানের দুলের মতো লাগে।
ওড়া বা ছৈলা ফল: এই গাছে গোল গোল টক স্বাদের প্রচুর ফল ধরে, যা দেখতে অনেকটা সবুজ আপেলের মতো। ফলগুলোর নিচের দিকে তারার মতো চ্যাপ্টা বাটি বা বৃতি (Calyx) থাকে। এই ফলগুলো উপকূলের মানুষ এবং বনের বন্যপ্রাণীদের বেশ পছন্দের খাবার।
ফল ও ফুলের ব্যবহার: ওড়া গাছের ফুলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মধু থাকে। এর কাঁচা ফল বেশ টক হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষেরা এই ফল কেটে মরিচ-লবণ দিয়ে অত্যন্ত সুস্বাদু ভর্তা বা চাটনি বানিয়ে খান। অনেকে এটি দিয়ে টক ডাল বা তরকারিও রান্না করেন।
শ্বাসমূল: কেওড়া গাছের মতোই ওড়া গাছের গোড়া থেকেও কাদা মাটির ওপরে অসংখ্য সূঁচালো ও শক্ত শ্বাসমূল (Pneumatophores) সোজা হয়ে বের হয়ে থাকে, যা জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকা অবস্থায়ও গাছকে বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে সাহায্য করে।
আবাসস্থল ও গুরুত্ব: ওড়া গাছ সাধারণত সুন্দরবনের কম লবণাক্ত নদীর পাড় এবং জোয়ার-ভাটার প্লাবিত নরম কাদা মাটিতে বেশি জন্মায়। এর কাঠ বেশ হালকা হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ছোট নৌকা, জালের কাঠি এবং ঘরের বিভিন্ন হালকা জিনিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ওড়া বা ছৈলা গাছ নিয়ে আপনার কি আরও কোনো কিছু জানার আগ্রহ রয়েছে? যেমন: