শারীরিক গঠন ও পাতা: হেতাল গাছগুলো দেখতে অবিকল ছোটখাটো বুনো খেজুর গাছের মতো হয়। এটি সাধারণত ঝোপালো আকৃতির হয়ে থাকে এবং ৩ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর পাতাগুলো লম্বা ও পালকের মতো ছড়ানো থাকে এবং পাতার গোড়ার দিকে সুচালো ও অত্যন্ত ধারালো কাঁটা থাকে।রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গোপন আস্তানা: সুন্দরবনের বাঘ বা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের প্রিয় বাসস্থানগুলোর একটি হলো ঘন হেতাল বন। এই গাছের হলদে-সবুজ পাতা এবং কান্ডের ছায়ার কারণে বাঘের গায়ের ডোরাকাটা দাগ খুব সহজেই মিশে যায় (ক্যামোফ্লেজ), যা বাঘকে শিকারী বা মানুষের চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে। এজন্য একে অনেক সময় "টাইগার পাম" (Tiger Palm)-ও বলা হয়।হেতাল ফল: এই গাছে ছোট ছোট বুনো খেজুরের মতো থোকা থোকা ফল ধরে। কাঁচা অবস্থায় ফলগুলো সবুজ বা লালচে রঙের হলেও পাকার পর তা কালচে বা বেগুনি রঙ ধারণ করে। বনের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং বানর এই ফল বেশ পছন্দ করে।লাঠি ও ছড়ি হিসেবে ব্যবহার: হেতালের কাণ্ড বা কড়া অত্যন্ত শক্ত ও সোজা হয়। সুন্দরবনের বাওয়ালি (কাঠুরে), মৌয়াল এবং জেলেরা বনে প্রবেশ করার সময় আত্মরক্ষার জন্য বা বাঘ তাড়াতে প্রাচীনকাল থেকেই "হেঁতাল লাঠি" ব্যবহার করে আসছেন। এছাড়া গ্রামীণ বয়োবৃদ্ধদের হাঁটার লাঠি তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।অন্যান্য ব্যবহার: এর পাতা শুকিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষেরা ঘরের ছাউনি বা মাদুর তৈরি করেন। তবে এর কাণ্ডে ও পাতায় থাকা ধারালো কাঁটার কারণে এই বনে চলাফেরা করা বেশ বিপজ্জনক ও কষ্টসাধ্য।