Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন


বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন বলতে মূলত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে বাংলার দীর্ঘ শাসনকালকে বোঝায়। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ব্রিটিশ প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করলে রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনে তাদের কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য

১. রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: ধীরে ধীরে বাংলার শাসনব্যবস্থা ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

২. অর্থনৈতিক শোষণ: বাংলার কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য ব্রিটিশ স্বার্থে ব্যবহৃত হয়।

৩. রাজস্ব ব্যবস্থা: কৃষকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের রাজস্বের চাপ বৃদ্ধি পায়। ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করা হয়।

৪. কুটিরশিল্পের অবনতি: বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও বস্ত্রশিল্প ব্রিটিশ শিল্পপণ্যের প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৫. শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন: পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটে এবং নতুন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ হয়।

৬. প্রতিরোধ ও আন্দোলন: কৃষক, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নানা আন্দোলন ও বিদ্রোহ গড়ে তোলে।

গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

১৭৫৭ → পলাশীর যুদ্ধ → ১৭৬৫ → দেওয়ানি লাভ → ১৭৯৩ → চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত → ১৮৫৭ → সিপাহি বিদ্রোহ → ১৯০৫ → বঙ্গভঙ্গ → ১৯৪৭ → ব্রিটিশ শাসনের অবসান।

সংক্ষেপে: বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন একদিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল, অন্যদিকে শিক্ষা, যোগাযোগ ও প্রশাসনে কিছু পরিবর্তন এনেছিল। তবে এ সময় বাংলার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে শোষণ ও বৈষম্যেরও ব্যাপক প্রভাব পড়ে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট