Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ

পাঠ: ৫ ও ৬ মিয়োসিস কোষবিভাজন

মিয়োসিস কোষবিভাজন (Meiosis Cell Division)

শ্রেণি: অষ্টম | বিষয়: বিজ্ঞান (অধ্যায় ২, পাঠ ৫-৬)

১. মিয়োসিস কী? (What is Meiosis?)

যে বিশেষ কোষবিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি জনন মাতৃকোষ পরপর দুইবার বিভাজিত হয়ে ৪টি অপত্য কোষ (Daughter Cells) সৃষ্টি করে এবং অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়, তাকে মিয়োসিস কোষবিভাজন বলে।

  • মাতৃকোষ: ১টি ডিপ্লয়েড কোষ ($2n$)

  • ফলাফল: ৪টি হ্যাপ্লয়েড অপত্য কোষ ($n$)

  • অন্য নাম: হ্রাসমূলক বিভাজন (Reductional Division)

২. মিয়োসিস কোথায় ঘটে? (Where does it occur?)

মিয়োসিস প্রধানত জীবের জনন মাতৃকোষে (Germ cells) গ্যামেট বা জননকোষ তৈরির সময় ঘটে।

  • প্রাণিদেহে:

    • পুরুষ দেহে: শুক্রাণু (Sperm) তৈরিতে

    • স্ত্রী দেহে: ডিম্বাণু (Ovum) তৈরিতে

  • সপুষ্পক উদ্ভিদে: পরাগধানী (Anther) ও ডিম্বকে (Ovule)

৩. মিয়োসিসের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)

১. অপত্য কোষের সংখ্যা: ১টি মাতৃকোষ থেকে ৪টি অপত্য কোষ তৈরি হয়। ২. ক্রোমোজোম সংখ্যা: অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক ($n$) হয়ে যায়। ৩. বিভাজনের পর্যায়: নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটে পরপর ২ বার, কিন্তু ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র ১ বার। ৪. জিনগত বৈচিত্র্য: ক্রসিং ওভারের (Crossing over) মাধ্যমে জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে, ফলে অপত্য কোষে নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে।

৪. মিয়োসিসের ধাপসমূহ (Stages of Meiosis)

মিয়োসিস প্রক্রিয়াটি দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়:

(ক) মিয়োসিস-১ (Meiosis-I) — হ্রাসমূলক বিভাজন

এ ধাপে সমসংস্থ ক্রোমোজোমগুলো পৃথক হয়ে দুটি কোষে প্রবেশ করে এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। ১. প্রোফেজ-১: সবচেয়ে দীর্ঘতম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ক্রোমাটিন সংকুচিত হয় এবং ক্রসিং ওভার ঘটে। ২. মেটাফেজ-১: সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়া বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান নেয়। ৩. অ্যানাফেজ-১: সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজিত না হয়ে সমসংস্থ ক্রোমোজোম বিপরীত মেরুর দিকে গমন করে। ৪. টেলোফেজ-১: অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয় এবং ২টি হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়।

(খ) মিয়োসিস-২ (Meiosis-II) — সমীকরণিক বিভাজন

এ ধাপটি মূলত মাইটোসিসের মতোই। প্রথম ধাপে সৃষ্ট ২টি কোষ আবার বিভাজিত হয়ে মোট ৪টি অপত্য কোষ গঠন করে। ১. প্রোফেজ-২: নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বিলুপ্ত হতে শুরু করে এবং স্পিন্ডল তন্তু গঠিত হয়। ২. মেটাফেজ-২: ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে সারিবদ্ধ হয়। ৩. অ্যানাফেজ-২: সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় এবং বোন ক্রোমাটিডগুলো দুটি বিপরীত মেরুর দিকে চলে যায়। ৪. টেলোফেজ-২: মেরুতে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন পুনরায় গঠিত হয় এবং ৪টি হ্যাপ্লয়েড ($n$) অপত্য কোষের সৃষ্টি সম্পন্ন হয়।

৫. মিয়োসিসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য (Significance)

  • জননকোষ সৃষ্টি: যৌন প্রজননের জন্য আবশ্যকীয় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি করে।

  • ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির রাখা: প্রজন্মের পর প্রজন্মে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখে (শুক্রাণু $n$ + ডিম্বাণু $n$ = জাইগোট $2n$)।

  • জীবজগতে বৈচিত্র্য আনা: ক্রসিং ওভার ও জিনগত পুনর্মিলনের মাধ্যমে জীবজগতে পরিবর্তন ও বিবর্তন সাধিত হয়।

৬. দ্রুত রিভিশন ও প্রশ্নোত্তর (Quick Q&A)

প্রশ্ন ১: মিয়োসিস বিভাজনে কয়টি অপত্য কোষ গঠিত হয়?

  • উত্তর: ৪টি হ্যাপ্লয়েড ($n$) অপত্য কোষ।

প্রশ্ন ২: মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?

  • উত্তর: কারণ এই বিভাজনে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের তুলনায় অর্ধেক হয়ে যায়।

প্রশ্ন ৩: ক্রসিং ওভার কোন ধাপে ঘটে?

  • উত্তর: মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ ধাপে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট