Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৪৮ অপরাহ্ণ

"আঠারো বছর বয়স" --- সুকান্ত ভট্টাচার্য
"আঠারো বছর বয়স" কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও উদ্দীপনামূলক কবিতা। এটি কবির বিখ্যাত 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত এবং বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) স্তরের বাংলা প্রথম পত্রের পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত। কবিতাটিতে কবি বয়ঃসন্ধিকালের তরুণদের মানসিক বৈশিষ্ট্য, তারুণ্যের শক্তি, সাহস এবং তাদের সমাজ পরিবর্তনের অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছেন।
নিচে কবিতাটির মূলভাব, প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আলোচনা করা হলো:
💡 কবিতার মূলভাব ও সারসংক্ষেপ
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সের নেতিবাচক ও ইতিবাচক—উভয় দিকই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন:
  • দুঃসাহস ও নির্ভীকতা: এই বয়স কোনো বাধা বা ভয় মানে না। আঠারো বছর বয়স বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও বুক পেতে দিতে জানে। তারা অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখে এবং যেকোনো কঠিন কাজের ঝুঁকি নিতে দ্বিধাবোধ করে না।
  • নেতিবাচক দিক ও সংশয়: কবি স্বীকার করেছেন যে, এই বয়সে তরুণরা চরম মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যায়। এ বয়সে কানে নানা রকম মন্ত্রণা আসে, ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং অনেকেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। এই বয়সের তরুণদের প্রতিনিয়ত কান্নার মুখোমুখি হতে হয় এবং এটি অনেকের জন্য বেদনারও কারণ হতে পারে।
  • আত্মত্যাগ ও সমাজ সংস্কার: সমস্ত নেতিবাচক দিক ছাপিয়ে এই বয়সের ইতিবাচক রূপটিই প্রধান। তরুণরা নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের ও দশের মঙ্গলের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করতে পারে। তারা জরাজীর্ণ ও অন্যায় সমাজকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়তে চায়।
  • তারুণ্যের জয়গান: কবিতার শেষাংশে কবি এই আঠারো বছর বয়সের জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। কবি কামনা করেছেন যে, সমস্ত জড়তা ও কাপুরুষতা দূর করে প্রতিটি দেশের জাতীয় জীবনে যেন এই আঠারো বছর বয়সের তারুণ্য, সাহস ও উদ্দীপনা নেমে আসে।

🛠️ গঠন ও ছন্দশৈলী

  • ছন্দ: কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে (৬ মাত্রার মূল পর্ববিন্যাসে) রচিত। এর ফলে কবিতাটির আবৃত্তি অত্যন্ত গতিময় ও ঝংকারপূর্ণ।
  • মূল সুর: তারুণ্যের উদ্দীপনা, অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং সমাজ পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট