Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:২০ অপরাহ্ণ

'ঋতু বর্ণন'---
মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি আলাওল রচিত 'ঋতু বর্ণন' কবিতাটি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'পদ্মাবতী'-র ঋতু বর্ণন অংশ থেকে সংকলিত হয়েছে। এই কবিতায় কবি বাংলার ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য এবং তার সাথে মানুষের মনের গভীর অনুভূতির রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। 
প্রধান ঋতুগুলোর লাইনভিত্তিক সংক্ষিপ্ত ও সহজ ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
১. বসন্ত ঋতু
“প্রথমে বসন্ত ঋতু নবীন পল্লব। দুই পক্ষ আগে পাছে মধ্যে সুমাধব কবিলা॥ মলয়া সমীর হৈলা কামের পদাতি। মুকুলিত কৈল তবে বৃক্ষ বনস্পতি॥”
  • লাইন ব্যাখ্যা: শীত ও গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে বসন্ত ঋতুর আগমন ঘটে। এ সময় গাছে গাছে নতুন পাতা (নবীন পল্লব) গজায়। দক্ষিণ দিক থেকে বয়ে আসা মৃদু বাতাস (মলয়া সমীর) যেন প্রেমের দেবতার (কামের) বার্তাবাহক বা পদাতিক হিসেবে কাজ করে এবং গাছের ডালে ডালে মুকুল ফোটাতে শুরু করে। [1, 2]
“কুসুমিত কিংশুক সঘন বন লাল। পুষ্পিত সুরঙ্গ মল্লি লবঙ্গ গুলাল॥ ভ্রমরের ঝঙ্কার কোকিল কলরব। শুনিতে যুবক মনে জাগে অনুভব॥”
  • লাইন ব্যাখ্যা: পলাশ বা কিংশুক ফুলে সমস্ত বন লাল হয়ে ওঠে। মল্লিকা, লবঙ্গ ও গুলাল ফুলে প্রকৃতি সেজে ওঠে। মৌমাছির গুঞ্জন (ভ্রমরের ঝঙ্কার) আর কোকিলের মিষ্টি ডাক (কোকিল কলরব) তরুণ-যুবকদের মনে প্রেমের বা আনন্দের শিহরণ জাগায়। 

২. গ্রীষ্ম ঋতু (নিদাঘ)
“প্রচণ্ড তপন, ছায়া সরণ, চন্দন-চম্পক-মলয়া পবন।”
  • লাইন ব্যাখ্যা: গ্রীষ্মকালে সূর্য প্রচন্ড তাপদাহ ছড়ায়। রোদের তীব্রতায় চারপাশ তেতে ওঠে, আর কাঠফাটা রোদে গাছের ছায়াও যেন লুকিয়ে পড়ার জায়গা খোঁজে। এই প্রচণ্ড গরমে মানুষ কিছুটা প্রশান্তির খোঁজে চন্দন, চাঁপা ফুল আর সুবাসিত বাতাসের সাহায্য নেয়। 

৩. বর্ষা ঋতু (পাবস)
“ঘন গর্জন, বারি বর্ষণ, কৈলাসে মল্লার রাগ, দাদুরী-শিখীনি রব।”
  • লাইন ব্যাখ্যা: বর্ষায় আকাশে কালো মেঘের ঘন ঘন গর্জন ও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় মেঘমল্লার রাগ শোনার মতো পরিবেশ তৈরি হয়। ব্যাঙের ডাক (দাদুরী) আর ময়ূরের পেখম তুলে নৃত্য ও ডাক (শিখীনি রব) বর্ষার প্রকৃতিকে মুখর করে তোলে। 

৪. শরৎ ঋতু
“নির্মল আকাশ, চামার কেশ দোলা, নবীন খঞ্জন।”
  • লাইন ব্যাখ্যা: শরৎকালের আকাশ থাকে মেঘমুক্ত ও একদম পরিষ্কার। নদীর তীরে কাশফুলের মাথা দোলা যেন চামরের মতো লাগে এবং খঞ্জন পাখি ছোটাছুটি করে শরৎকালীন রূপের জানান দেয়। [    
৫. হেমন্ত ঋতু
“শীত, পুষ্প তুল্য তাম্বূল।”
  • লাইন ব্যাখ্যা: হেমন্তে শীতের আমেজ শুরু হয়। নতুন ধান কাটার উৎসবের পাশাপাশি কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে প্রকৃতি শান্ত হয়ে আসে এবং পান-সুপারি বা তাম্বূল খাওয়ার প্রচলন বাড়ে। [1]

৬. শীত ঋতু
“রবি লুকাএ, দীর্ঘ নিশি, কাফুর-কস্ত্তরী সৌরভ।”

  • লাইন ব্যাখ্যা: শীতকালে সূর্য যেন কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে থাকে (রবি লুকাএ)। দিন হয় ছোট এবং রাত হয় দীর্ঘ। ঠান্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচতে ও শরীর গরম রাখতে কর্পূর ও কস্তুরীর সুবাস ব্যবহার করা হয়। [1]
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট