Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:০৯ অপরাহ্ণ

'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন'
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধটি মূলত নতুন ও তরুণ লেখকদের জন্য একটি কালজয়ী সাহিত্য-নির্দেশিকা। ১৮৮৫ সালে (১২৯১ বঙ্গাব্দের মাঘ সংখ্যায়) তাঁর সম্পাদিত 'প্রচার' পত্রিকায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধটিতে তিনি সাহিত্যের মান উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণের উদ্দেশ্যে লেখকদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট ও নৈতিক পরামর্শ দিয়েছেন।
নিচে প্রবন্ধটির মূল ভাব ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ সারসংক্ষেপ আকারে তুলে ধরা হলো:
১. লেখার উদ্দেশ্য (যশ বা অর্থের মোহ বর্জন)
  • প্রধান লক্ষ্য: কেবল যশ (খ্যাতি) কিংবা উপার্জনের উদ্দেশ্যে লেখা উচিত নয়। বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, যিনি কেবল অর্থের জন্য লেখেন, তাঁকে 'যাত্রাওয়ালা' বা নিম্নমানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
  • প্রকৃত উদ্দেশ্য: সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানবকল্যাণ, সত্য ও ধর্মের প্রতিষ্ঠা এবং সৌন্দর্য সৃষ্টি। 
২. সত্যের অনুসন্ধান ও অসত্য পরিহার
  • যা কিছু অসত্য, সমাজ ও ধর্মের পরিপন্থী, কিংবা যা অন্যের নিন্দা বা পরপীড়নের উদ্দেশ্যে রচিত, তা সাহিত্যের পাতা থেকে সম্পূর্ণ বর্জনীয়। 
৩. রচনা সংশোধন ও পরিপক্বতা
  • কোনো লেখা সম্পন্ন করার পরপরই তা প্রকাশ না করে কিছুদিন রেখে দেওয়া উচিত। কিছুদিন পর নিজের লেখাটি পুনরায় পড়লে তার ভুলত্রুটি ও অসংগতিগুলো সহজেই ধরা পড়ে এবং তা সংশোধন করা সহজ হয়। (যদিও সাময়িক বা খবরের কাগজের সাহিত্যের ক্ষেত্রে এটি সব সময় সম্ভব হয় না)। 
৪. সরলতা ও অলংকার প্রয়োগ
  • জোরপূর্বক অলংকার বা কৃত্রিম রসিকতা দিয়ে লেখাকে ভারী বা জটিল করার চেষ্টা করা অনুচিত।
  • বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, সরলতাই হলো রচনার সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার। যে লেখা পাঠক সহজেই বুঝতে পারে, তার কার্যকারিতা ও স্থায়ীত্ব অনেক বেশি হয়। 
۵. অনুকরণ ও পাণ্ডিত্য প্রকাশের চেষ্টা বর্জন
  • অন্যের লেখার অন্ধ অনুকরণ করা যাবে না, কারণ অনুকরণে কখনো মৌলিকতা বা প্রকৃত গৌরব প্রকাশ পায় না।
  • নিজের পাণ্ডিত্য বা বিদ্যা জাহির করার জন্য জোর করে কঠিন শব্দ বা অপ্রমাণিত তথ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত:
বঙ্কিমচন্দ্র মনে করেন, সাহিত্যের লক্ষ্য যদি হয় বিশুদ্ধ সত্য ও জনকল্যাণ, তবে সেই সাহিত্য চিরকাল টিকে থাকে এবং সমাজকে আলোর পথ দেখায়। নতুন লেখকদের দায়িত্বশীল ও আত্মসংযমী হয়ে লেখনী ধারণ করাই এই প্রবন্ধের মূল বার্তা।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট