Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:৩০ অপরাহ্ণ

'সাহিত্যে খেলা'
প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বই পড়া' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধটি বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত মননশীল ও যুক্তিপূর্ণ রচনা। প্রমথ চৌধুরী (যিনি 'বীরবল' ছদ্মনামে লিখতেন) এই প্রবন্ধে সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য, আনন্দ এবং সমাজ ও শিক্ষার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন।
নিচে প্রবন্ধটির মূল ভাব ও গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ সারসংক্ষেপ আকারে তুলে ধরা হলো:
১. সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও 'খেলা'র ধারণা
  • সাহিত্য এক প্রকার খেলা: প্রমথ চৌধুরীর মতে, সাহিত্যের মূল প্রকৃতি হলো তা এক ধরণের 'খেলা'। তবে এই খেলা কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের মনের একটি স্বাধীন ও আনন্দময় প্রকাশ।
  • প্রয়োজন বনাম আনন্দ: মানুষ সাধারণত যা কিছু করে, তার পেছনে কোনো না কোনো জাগতিক প্রয়োজন বা উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু খেলা বা সাহিত্যের কোনো বৈষয়িক উদ্দেশ্য থাকে না। এটি সম্পূর্ণ নিষ্কাম ও আনন্দ লাভের জন্য করা হয়।
২. আনন্দই সাহিত্যের পরম লাভ
  • প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন যে, সমাজ সাধারণত কাজের জিনিসকে মূল্য দেয় এবং খেলাধুলা বা সাহিত্যচর্চাকে 'সময়ের অপচয়' মনে করে। কিন্তু প্রমথ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেছেন, আনন্দের মূল্য যেকোনো প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি।
  • সাহিত্য মানুষকে জাগতিক দুঃখ-কষ্ট ও দৈনন্দিন বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দিয়ে এক পরম মানসিক আনন্দ প্রদান করে।
৩. মনের স্বাধীনতা ও বিজ্ঞান বনাম সাহিত্য
  • মনের মুক্তি: বিজ্ঞান বা দর্শন মানুষকে জ্ঞান দেয়, কিন্তু সাহিত্য মানুষকে দেয় মুক্তি ও রস। বিজ্ঞান আমাদের চারপাশের জগতকে চেনায়, আর সাহিত্য আমাদের ভেতরের মনকে জাগিয়ে তোলে।
  • সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানুষের মন সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে উদার ও স্বাধীন হতে শেখে। যে জাতির সাহিত্যে আনন্দ নেই, সে জাতির মন কখনো সতেজ ও প্রাণবন্ত হতে পারে না।
৪. শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক
  • প্রমথ চৌধুরী তৎকালীন মুখস্থনির্ভর ও ফলমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে দেখিয়েছেন যে, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বিদ্যা মানুষের মনকে বিকল করে দেয়।
  • অপরদিকে, স্বতঃস্ফূর্ত সাহিত্যচর্চা মানুষের রুচিবোধ উন্নত করে এবং তাকে প্রকৃত সংস্কৃতিবান করে তোলে।

সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত:
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল কথা হলো—সাহিত্যকে কোনো লৌকিক লাভ-ক্ষতি বা বৈষয়িক দাঁড়িপাল্লায় মাপা উচিত নয়। সাহিত্য মানুষের মনের আনন্দ ও স্বাধীনতার প্রতীক। খেলা যেমন শরীরকে সুস্থ রাখে, সাহিত্য তেমনি মানুষের মন ও আত্মাকে সজীব ও সতেজ রাখে।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট