Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

ধূমপান ও মাদকাসক্তি

ধূমপান ও মাদকাসক্তি: সুস্থ জীবন গড়তে সচেতনতার বিকল্প নেই

ধূমপান ও মাদকাসক্তি বর্তমান সমাজের অন্যতম ভয়াবহ সমস্যা। এটি শুধু একজন মানুষের শরীর ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি সুন্দর ও সুস্থ জীবন গড়তে ধূমপান ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শুধু ধূমপায়ী ব্যক্তিই নন, তাঁর আশপাশের মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণতি

মাদকাসক্তি মানুষের বিবেক, চিন্তাশক্তি, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে, কর্মজীবীরা কর্মক্ষমতা হারায় এবং পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে মানুষ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান ও মাদক

ইসলাম মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য, বিবেক ও সম্পদের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ

অর্থ: “তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না।”
—সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯৫।

মাদক সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অর্থ: “হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।”
—সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৯০।

মাদক মানুষের বিবেক ও বিচারবুদ্ধি নষ্ট করে। তাই সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা মুসলমানের কর্তব্য। ধূমপানের ক্ষেত্রেও এর ক্ষতি বিবেচনায় ইসলামী আলেমগণ তা পরিহার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

প্রতিরোধে আমাদের করণীয়

১. ধূমপান ও মাদক গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
২. সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে এবং তাদের চলাফেরা ও বন্ধুমহল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
৩. মাদক গ্রহণে উৎসাহিত করে এমন বন্ধু ও পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।
৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
৫. মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা বা অপমান না করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করতে হবে।
৬. ধূমপান ছাড়তে প্রয়োজনে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিতে হব

স্লোগান: “ধূমপান ও মাদককে না বলুন, সুস্থ জীবনকে বেছে নিন।”

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট