সহকারী শিক্ষক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ ইসলাম শিক্ষা
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৪
পাঠঃ পাঠ ৩
গিবত হলো কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ বা ত্রুটি আলোচনা করা, যা সে শুনলে অপছন্দ করবে। দোষটি যদি তার মধ্যে সত্যিই থাকে, তবে তা গিবত। আর যদি সেই দোষ তার মধ্যে না থাকে, তবে তা অপবাদ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি জানো, গিবত কী?” সাহাবিরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন—
ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ
অর্থ: “তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৯
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন—
وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ
অর্থ: “তোমরা একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা ঘৃণা করো।”
— সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২
আল্লাহ তাআলা গিবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এর মাধ্যমে গিবতের জঘন্যতা ও ভয়াবহতা আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গিবত শুধু মুখের একটি কথা নয়; এর মাধ্যমে মানুষের সম্মানহানি হয় এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি হয়। গিবতের কয়েকটি ক্ষতিকর দিক হলো—
১. আল্লাহর অসন্তুষ্টি: গিবত ইসলামে নিষিদ্ধ এবং এটি গুরুতর গুনাহ।
২. সম্পর্ক নষ্ট হয়: গিবতের কারণে বন্ধু, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়।
৩. সমাজে অশান্তি ছড়ায়: পরনিন্দা মানুষের মধ্যে সন্দেহ, হিংসা ও বিভেদ বাড়ায়।
৪. নিজের চরিত্র কলুষিত হয়: যে ব্যক্তি অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সে নিজের সংশোধনের সুযোগ হারায়।
৫. পরকালে জবাবদিহি করতে হবে: মানুষের অধিকার নষ্ট করলে কিয়ামতের দিন তার প্রতিকার করতে হতে পারে।
গিবত থেকে বাঁচতে হলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গিবত থেকে বেঁচে থাকার এবং সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।